বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্রীড়ালেখক সমিতি চার প্রবীণ সাংবাদিককে সংবর্ধনা দিয়েছে। ক্রীড়া লেখালেখি এবং ক্রীড়া সংবাদিকতায় অবদান রাখার জন্য এই সম্মাননা পেয়েছেন দৈনিক ইনডিপেনডেন্ট পত্রিকার ক্রীড়া সম্পাদক ও বাংলাদেশ স্পোর্টস জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসজেএ) সাবেক সভাপতি মঞ্জুরুল হক, ক্রীড়ালেখক সমিতির সদস্য বিমান ভট্টাচার্য, মোস্তফা কামাল এবং মোহাম্মদ সেলিম।
গতকাল বিকালে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এই চার জনের হাতে ক্রীড়ালেখক সমিতির মনোগ্রাম খচিত ব্লেজার পরিয়ে ও শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ক্রীড়া লেখক রণজিত্ বিশ্বাস।
বিশ্বব্যাপী ২ জুলাই ক্রীড়া সাংবাদিক দিবস পালন করা হয়। গতকাল অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার আগে কেক কাটেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী। তার সাথে ছিলেন বিএসজেএ-এর সভাপতি সাইদুজ্জামান এবং সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান শামীম। উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়ালেখক সমিতির সভাপতি হাসান উল্লাহ খান রানা এবং সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মামুন।
১৯৭৪ সাল থেকে ক্রীড়া সাংবাদিকতা শুরু করেন মঞ্জুরুল হক। নিজের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘একজন পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে বিশ্ব ক্রীড়া সাংবাদিক দিবসে এমন সম্মান পাওয়ায় আমার খুবই ভালো লাগছে।’ তিনি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে অনুরোধ করে বলেন, বাংলাদেশে একটি ক্রীড়াদিবস প্রচলন করার জন্য।
প্রধান অতিথি ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আহাদ আলী সরকার জাতীয় ক্রীড়া দিবস প্রবর্তনের বিষয়ে বলেন, ‘এখন সরকারের সময় শেষ। এটা বিল আকারে তুলে কেবিনেটে পাস করানোটা কঠিন। আমি চেষ্টা করব। পারলে নিজেও গর্বিত হবো।’
১৯৭০ সালে সাংবাদিকতা শুরু হয় বিমান ভট্টাচার্যের। সাপ্তাহিক বাংলার বাণী, দৈনিক বাংলা, টাইমস, অবজারভার পত্রিকায় চাকরি করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা বিমান ভট্টাচার্য। তার স্ত্রী শিখা ভট্টাচার্যও মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। দেশের জন্য লড়াই করেছেন। বিমান ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমি আজ আবেগে আপ্লুত। আমার কাছে এটা জাতীয় ক্রীড়া পুস্কারের চেয়েও বেশি।’
মোস্তফা কামাল ফুটবল-ভলিবল সবই খেলেছেন মোহামেডানের (ফুটবল ৬৬-৬৯) হয়ে। খেলাধুলার লেখালেখিও করেছেন তিনি। ফুটবল ভলিবল কোচ ছিলেন। রাষ্ট্রিয় ক্রীড়া পুরস্কারও পেয়েছেন তিনি। সংবর্ধনা পেয়ে মোস্তফা কামাল বলেন, ‘আমার জীবনের স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে এটি।’
আরেক সংবর্ধিত লেখক মোহাম্মদ সেলিম পেশাগত জীবনে ডাক বিভাগের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সাথে খেলাধুলা নিয়ে প্রচুর লেখালেখি করেছেন তিনি। ১৯৬৭ সালে লেখালেখিটা শুরু করেন সেলিম। দেশের বড় বড় পত্রিকায় গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ হয়েছে মোহাম্মদ সেলিমের লেখা।
