মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। আর এই অগ্রগতির জন্য ২০১৩ সালের মানব পাচার প্রতিবেদনে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ২০১২ সালে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্যান্য দেশের তুলনায় মানব পাচার রোধে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে। আর এমন ভাল কাজে আমেরিকা সবসময় উত্সাহ প্রদান করে থাকে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বন্ধবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উইন রক ও ইএসএআইডির যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানব পাচার আইন এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ভাবনা শীর্ষক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা একথা বলেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব সিকিউকে মুস্তাক আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. রেদোয়ানুল হক, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. কামলার উদ্দিন আহম্মেদ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক সাঈদা মুনা তাসনিম।
ড্যান মজীনা বলেন, বিশ্ববাজারে বাংলাদেশ জনশক্তি রফতানিতে অনেক এগিয়ে রয়েছে, যার সংখ্যা অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। কিন্তু জনশক্তি রফতানির সংখ্যানুযায়ী মানব পাচার নিতান্তই কম। সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন এনজিও মানব পাচার প্রতিরোধে সফলভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, আধুনিক যুগের দাসত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এসব সাফল্যের জন্য আমি বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানাই। আমি আনন্দিত যে মানব পাচারের শিকারদের পুনর্গঠিত হতে সহায়তা করে, ভঙ্গুর জনগোষ্ঠীর হাজার হাজার মানুষের মাঝে মানব পাচারের হুমকির বিরুদ্ধে বৃহত্তর সচেতনতা গড়ে তুলে, মানব পাচারের মামলার বিচার কাজের জন্য নতুন আইন ও উন্নত কার্যপ্রণালী বিষয়ে ২শ’র বেশি পুলিশ কর্মকর্তা, আইনজীবী এবং বিচারকদের প্রশিক্ষণ প্রদান করে, বিদেশে শ্রমিকদের নিরাপদ অভিবাসনের প্রচার করে এবং শ্রম অভিবাসন পর্যবেক্ষণের জন্য “ভিজিল্যান্ট টাস্ক ফোর্স”-এ অংশগ্রহণ করে আমেরিকা এর ভূমিকা পালন করেছে। আমি আশা করি, বাংলাদেশ শ্রমিক কর্তৃক নিয়োগ ফি নেয়া রহিত করতে বৈশ্বিক মানদণ্ডের দিকে এগিয়ে যাবে এ ধরনের ফি পাচারকে আরো সহায়তা প্রদান করে। মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের সরকারের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত চুক্তিটি এ পথে একটি হিতকর পদক্ষেপ। ফিলিপাইনে নিয়োগকারীরাই সকল নিয়োগ ব্যয় বহন করে। জনগণ, সুশীল সমাজ এবং সরকার বাংলাদেশকে মানুষ-পাচারমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। এদেশের চমত্কার মানুষ যাতে পাচারের শিকার না হওয়ার লড়াইয়ে জয়ী হয় তার জন্য বাংলাদেশে আমেরিকার প্রতিনিধি হিসেবে আমি অঙ্গীকার করছি যে, আমার মিশন আমার সরকার সব ধরনের সাহায্য প্রদান করবে।
