হেফাজত ইসলামের হামলায় প্রায় তিন মাস মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হার মানলেন বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আরিফ রায়হান দ্বীপ। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। দ্বীপ ছিলেন বুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র এবং বুয়েট ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। গত ৯ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম হলের সামনে হেফাজত ইসলামের এক কর্মী চাপাতি দিয়ে তার ওপর হামলা চালালে দ্বীপ গুরুতর আহত হন। এরপর তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গতকাল পর্যন্ত স্কয়ার হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন তিনি।
গতকাল সকালে মৃতদেহ বুয়েট ক্যাম্পাসে আনা হয়। পরে এম রশিদ ভবনের সামনে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। মরদেহ গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরে পাঠানো হয়েছে। এ সময় বুয়েটের উপাচার্যসহ শিক্ষকমন্ডলী ও দ্বীপের বাবা, মা ও ভাই উপস্থিত ছিলেন। দ্বীপের বাবা আলী আজম বলেন, ‘সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় আমার ছেলেকে জীবন দিতে হয়েছে। আর যেন কাউকে এভাবে জীবন দিতে না হয়।’
দ্বীপের বন্ধুরা জানান, দ্বীপ ছিলেন রশিদ হলের ৩০২ নম্বর কক্ষের আবাসিক ছাত্র। ঐ হামলার শিকার হওয়ার কয়েকদিন আগে ক্যাম্পাসে হেফাজতে ইসলামের নামধারী শিবিরের এক কর্মীকে মারধর করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছিলেন দ্বীপ। ঐ ঘটনার পর থেকে তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। এর জের ধরে তার ওপর হামলা চালায়। হামলার পর থেকে আর কথা বলতে পারেননি দ্বীপ। পরিবারের পক্ষ থেকে উন্নত চিকিত্সার জন্য তাকে বিদেশে পাঠানোর দাবি উঠলে তা করার প্রক্রিয়াও শুরু করে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের চিকিত্সা ব্যয় বুয়েট বহন করছিল। তার উন্নত চিকিত্সার জন্য ভারতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল এবং সে অনুসারে কাজও এগিয়েছিল। কিন্তু তার আগেই সে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে।’
হামলায় জড়িত থাকার অভিযোগে গোয়েন্দা পুলিশ গত ১৭ এপ্রিল মেজবাহ উদ্দীন মেজবাহ নামে বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের এক ছাত্রকে গ্রেফতার করে। মেজবাহ পুলিশের কাছে দ্বীপের ওপর হামলার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের কাছে মেজবাহ জানান যে, দ্বীপ বুয়েটের একটি হলে ইমামকে হেফাজত ইসলাম সমর্থন করার কারণে কটূক্তি করেন। এর প্রতিশোধ নিতেই দ্বীপের ওপর হামলা চালান তিনি। এদিকে, বুয়েটের নিজস্ব তদন্ত কমিটির রিপোর্টে দ্বীপের ওপর হামলার ঘটনায় মেজবাহ জড়িত থাকার বিষয় প্রমাণিত হওয়ায় তাকে বুয়েট থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
