ট্রাইব্যুনালে সালাহউদ্দিন কাদের

আমি কমিউনিস্টদের রাজনৈতিক হয়রানির শিকার

আপডেট : ০২ জুলাই ২০১৩, ২২:৫৭
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি বলেছেন, আমাকে রাজনৈতিকভাবে হয়রানির পেছনে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে এমন হতাশাগ্রস্ত কমিউনিস্টরা দায়ী। যারা জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ এবং বিপক্ষের শক্তিতে বিভক্ত করতে চায়। তারাই মুসলিম উম্মাহ্র নেতাদের নানা অভিযোগে অভিযুক্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। সেই অপচেষ্টার শিকার হিসেবে আজ আমি এ ট্রাইব্যুনালে দাঁড়িয়েছি। গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ নিজের পক্ষে দেয়া সাক্ষ্যে তিনি এ কথা বলেন। এ সময় জবানবন্দিতে তিনি আরো বলেন, একজন সাক্ষী ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল কুন্ডেশ্বরীতে আমার উপস্থিত থাকার কথা বলেছেন। যদিও তিনি স্বীকার করেছেন ভারত থেকে ফিরে আসার পর এ কথা শুনেছেন। এছাড়া ১৯৭৯ সালের সংসদ নির্বাচনে নতুন চন্দ্র সিংহের ছেলে সত্য রঞ্জন সিংহ আমার মনোনয়নের প্রস্তাবক ছিলেন। এতে সহজেই সাক্ষীর দাবি মিথ্যা প্রতিপন্ন হয়। ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল আমি বাংলাদেশ থেকে ১২০০ মাইল দূরে ছিলাম। চাক্ষুস সাক্ষীরা এখানে এসে বলেছেন তারা কখনো আমাকে দেখেনি। জবানবন্দি শেষের আগে তিনি ডকুমেন্ট হিসেবে চারটি বই প্রদর্শন করেন। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা শুরু করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী জেয়াদ আল মালুম। জেরা অসমাপ্ত অবস্থায় মামলার কার্যক্রম আগামীকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। গতকাল নবম ও শেষদিনের জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল রাউজানের কুন্ডেশ্বরীতে আমার উপস্থিতির বিষয়ে গুজবের জন্মদাতাকে চিহ্নিত করতে এ ট্রাইব্যুনাল আমাকে সুযোগ করে দিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা আমার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ কল্পকাহিনী তৈরি করেছে। তারপরও রাউজানে তিনটি নির্বাচনে আমি আমার প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেছি। এ অভিযোগের প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষীরা অতীতে আমাকে দেখেছিলেন এ দাবি করেননি। রাজনৈতিক কারণে আমাকে এ বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে ব্যাপকমাত্রার গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে এ নিয়ে আমার বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই। আমি ভারত থেকে আসা উদ্বাস্তু নই। এ ভূমির সন্তান হওয়ায় সামপ্রদায়িকতার ভিত্তিতে সৃষ্ট বাংলাদেশের প্রতি আমার দেশপ্রেম এবং আনুগত্য সীমাহীন। আর্থিক এবং অন্যান্য সুবিধা দিয়ে আমরা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাচ্ছি। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর শহীদদের নাম ঢাকা ক্যান্টমেন্টের ফটকে টানানো আছে। কিন্তু গত ৪২ বছরে আমরা ৩০ লাখ শহীদকে চিহ্নিত করে তাদের স্বীকৃতি দিতে পারিনি। তবে আমার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রে কিছু নতুন শহীদের নাম এসেছে দেখে আমি খুশি। কারণ গত ৪২ বছরে এদের কথা বলা হয়নি। তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর শত্রু সম্পত্তি অধ্যাদেশ জারির হলে অনেক হিন্দু পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করে ভারতে চলে গিয়েছিলো। মুক্তিযুদ্ধের পর তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসে। নতুন চন্দ সিংহ ছাড়া মামলায় উল্লেখিত মৃত ব্যক্তিদের কারও নামই ১৯৭০ সালের ভোটার তালিকা অথবা কোন ভূমি রেকর্ডে নেই। তিনি বলেন, উনসত্তরপাড়ার ঘটনা নিয়ে ১৯৭২ সালে একটি মামলা হয়েছিল। কিন্তু সেই মামলায় আমি আসামি ছিলাম না। এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে আমি বাংলাদেশে ছিলাম না। মধ্যগহিরা, বণিকপাড়া এবং সুলতানপুরের ঘটনায় কোন থানায় কোন মামলা হয়নি। এর মাধ্যমেও প্রমাণ হয় আমি বাংলাদেশে ছিলাম না। তিনি বলেন, তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমি আবারও বলছি, ১৯৭১ সালের ২৯ মার্চ থেকে ১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল পর্যন্ত আমি বাংলাদেশে ছিলাম না।