এ যুগের রোমিও জুলিয়েট

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৮:৪৬
ভালো মানের নাটক নির্মাণের জন্য মানানসই জুটির বিষয়টা জরুরি। মানানসই জুটি হলে একের সাথে অপরের অভিনয়টাও অনেক সুন্দর লাগে। সম্প্রতি জেনি ও নিলয় জুটি বেধে অভিনয় করলেন কৌশিক শংকর দাশের পরিচালনায় ‘নীল রঙের গল্প’ নামের একটি ধারাবাহিকে। এই দুই তারকা জুটির কথা নিয়ে আমাদের এবারের মূলফিচার। লিখেছেন খালেদ আহমেদ মাত্র তিন বছর বয়সে বাবার হাত ধরে শোবিজে পা রেখেছিলেন জেনি। তিব্বত ৫৭০ সাবানের সেই বিজ্ঞাপনের স্মৃতি যখন দর্শকদের স্মৃতির অতলে হারিয়ে যাওয়ার জোগাড়, তখনই পূর্ণ তরুণী জেনি পর্দায় ফিরে আসেন পন্ডস ডেইলি ফেসওয়াশের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে। জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী তাহসানের বিপরীতে সেই বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের মাতিয়ে দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে অ্যাপোলো হসপিটাল, লিপটন ইয়েলো, মেরিল বেবী লোশনসহ বেশকিছু চমত্কার বিজ্ঞাপনে পারফর্ম করে দর্শক মন জয় করে জেনি নাম লেখান অভিনয়ে। ‘রমিজের আয়না’ থেকে সিঁড়ি বেয়ে পরবর্তী সময়ে ‘টুলেট’ ও ‘শান্ত কুটির’সহ বেশ কিছু নাটকে তার অভিনয় দর্শক হূদয় জয় করেছেন। জেনির ভাষ্যে, ‘আমি খুব ভাগ্যবতী যে, আমি যা চেয়েছি সবই পেয়েছি। আজকের অবস্থানের জন্য আমি আমার ভক্তদের কাছে অনেক কৃতজ্ঞ। কারণ, তারাই আমাকে ভালোবাসা দিয়ে এখানে এনেছেন। ছোটবেলা থেকে আমি বিজ্ঞাপনের সঙ্গে জড়িত ছিলাম। কারণ, যাকের আংকেল আমাকে বলা যায় জোর করে মিডিয়াতে নিয়ে আসেন। ২০০৫ সালে ইউনিলিভারের একটি বিজ্ঞাপনচিত্রে কাজ করি। তারপর করি পন্ডসের একটি বিজ্ঞাপন। ২০০৬ সালে শুরু করি নাটকের কাজ। এভাবেই আমি দর্শকদের ভালোবাসার জেনি হয়েছি।’ একজন অভিনয়শিল্পীর বড় গুণ হলো শেখার মানসিকতা। এই ধারার শিল্পীদের মধ্যে জেনিকে একটু এগিয়েই রাখতে হবে। বেশ কয়েক বছর ধরে অভিনয় করে অনেক নাটকের জন্য দর্শকদের ভালোবাসা অর্জনের পরও এই অভিনেত্রী এখনও নিজেকে অভিনয়ের শিক্ষার্থী ভাবতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। আর তার এই মানসিকতার কারণেই সমসাময়িক অন্যদের থেকে তাকে সহজেই আলাদা করা যায়। শিহাব শাহিনের পরিচালনায় ‘রমিজের আয়না’ নাটকের মাধ্যমেই অভিনেত্রী হিসেবে জনপ্রিয়তার সাথে প্রথম সাক্ষাত্ হয়েছিল জেনির। সেই থেকে শুরু। আজও একই ধারায় কাজ করছেন সমান জনপ্রিয়তা নিয়ে। সময় বদলেছে। জেনি ও সময়ের সাথে নিজেকের মানিয়ে নিয়ে কাজের ধারাতেও পরিবর্তন এনেছেন। তবে তার এই মানসিকতার একটুও পরিবর্তন হয়নি যে, মানসম্পন্ন কাজকে সঙ্গী করেই সবসময় পথ চলব।’ আর এই ভাবনার প্রতিফলন আমরা দেখতে পেয়েছি তার কাজে। এনটিভিতে প্রচারিত ধারাবাহিক নাটক ‘রুমালি’তেও। অন্যদিকে ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী সুপার হিরো সুপার হিরোইনের মাধ্যমে শোবিজে নাম লেখান নিলয়। এই আয়োজনে নিজের যোগ্যতা ও মেধা দিয়ে হাজারো প্রতিযোগীকে পিছনে ফেলে সেরা খেতাবটা ছিনিয়ে নেন। শুরু হয় তার কাজের পালা। একে একে কাজ করেন বিজ্ঞাপন, নাটক ও চলচ্চিত্রে। তার প্রথম বিজ্ঞাপন ছিল কেয়া ডিটারজেন্ট সাবান। বিজ্ঞাপনটি নির্মাণ করছেন কিরণ মেহেদী। গল্পনির্ভর এ বিজ্ঞাপনটিতে নিলয়ের বিপরীতে সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন নওশীন। এ প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, ‘এ বিজ্ঞাপনের গল্পটি খুবই সুন্দর। একটি মানসম্পন্ন পণ্যের বিজ্ঞাপনে কাজ করার ইচ্ছা ছিল। সব মিলিয়ে কাজ করতে বেশ ভালো লেগেছে।’ এরপর মমতাজ উপটানের বিজ্ঞাপনচিত্রেও পারফর্ম করেন নিলয়। পিপলু খানের নির্দেশনায় বাংলালিংক দেশ-৫ বিজ্ঞাপনচিত্রে পারফর্ম করেন তিনি। নিলয় চলচ্চিত্র ও নাটকে অভিনয় নিয়ে এখন ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, সুপার হিরো সুপার হিরোইন প্রতিযোগিতার প্রথম স্থান অধিকার করা নিলয়েরও মুক্তি পেয়েছে একটি ছবি। মাসুদ কায়নাত পরিচালিত এ ছবির নাম ‘বেইলি রোড’। এ ছাড়া তিনি অভিনয় করেছেন হাবিবুর রহমান হাবিব পরিচালিত ‘রূপ গাওয়াল’, আজীজ টিটুর ‘পায়রা’, সানিয়াত হোসেনের ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’সহ তিনটি ছবিতে। সবকটি ছবিতেই কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন নিলয়। ‘অল্প অল্প প্রেমের গল্প’ ছবিতে অভিনয় প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, ‘সানিয়াত ভাইয়ের এই ছবিতে আমার চরিত্রের নামও নিলয়। সব মিলিয়ে এ ছবিতে অভিনয় করতে পেরে আমি আনন্দিত। আর যে স্বপ্ন নিয়ে মিডিয়ায় এসেছিলাম আমার সে স্বপ্ন এখন একে একে পূরণ হচ্ছে। এখন আমি যে তিনটি ছবিতে অভিনয় করছি তার প্রত্যেকটির গল্পই সুন্দর। আমার বিশ্বাস আছে, ভালো গল্পের ছবি হলে দর্শক অবশ্যই তা গ্রহণ করবে।’ নীল রঙের গল্পের দু’জনা সাহিত্যে প্রেমের চিরায়ত প্রতীকী কিছু চরিত্র লাইলী-মজনু, রোমিও-জুলিয়েট, দেবদাস-পার্বতী। এ চরিত্রগুলো যদি এই সময়ের আলো-বাতাসে এনে ছেড়ে দেওয়া হয়, কী করবে তারা? কেমন হবে তাদের আচরণ? এসব নিয়ে ‘নীল রঙের গল্প’ নামের ধারাবাহিক নির্মাণ করছেন কৌশিক শংকর দাশ। নাটকে রোমিও-জুলিয়েট সেজেছেন নিলয়, লাইলী-মজনু হয়েছেন নাদিয়া ও আনিসুর রহমান মিলন ও জেনি এবং দেবদাস-পার্বতী হয়েছেন নিশো ও তিশা। আর নাটকটি রচনা করেছেন জাকারিয়া সৌখিন। নাটকে চরিত্রগুলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে আধুনিক ঢঙে একটি গল্পে এসে একত্রিত হয়েছে। যেখানে দেখা যাবে, দেবদাস-মজনু-রোমিও একই ইউনিভার্সিটির ছাত্র। আর তিনজনের মধ্যে বন্ধুত্বও চরম। তাদের জীবনে প্রেম আসে। ধীরে ধীরে পূর্ণতা পায় দেবদাস-পার্বতী, লাইলি-মজনু এবং রোমিও-জুলিয়েটের প্রেম। বর্তমানে এই ধারাবাহিকের শুটিং চলছে। এরই মাঝে শুটিংয়ে অংশ নিয়েছেন রোমিও-জুলিয়েট চরিত্রের অভিনয় শিল্পী নিলয়-জেনি। জুলিয়েট চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে জেনি বলেন, ‘নাটকের কনসেপ্টটি অসাধারণ। একেবারে আধুনিকভাবে নাটকটি নির্মিত হচ্ছে। আমি এ নাটকের একটি অংশ। আমার ধারণা নাটকটি দর্শকের পছন্দের তালিকায় থাকবে।’ রোমিও চরিত্রে অভিনয় প্রসঙ্গে নিলয় বলেন, ‘অভিনয়শিল্পীদের জীবনে কিছু স্বপ্নের চরিত্র থাকে। রোমিও তেমন একটি চরিত্র। এমন একটি চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে আমি উচ্ছ্বাসিত।’ পরিচালক কৌশিক শংকর দাশ বলেন, ‘এটাই আমার প্রথম ধারাবাহিক নাটক। আর প্রথম ধারাবাহিক নির্মাণ করার জন্য আমি অনেকদিন অপেক্ষা করেছি। কারণ আমি নতুন ধরনের কোনো কনসেপ্ট খুঁজছিলাম। এই কনসেপ্টটি একেবারেই নতুন স্বাদের। দর্শকদেরও নতুন কিছু দেওয়ার জন্য আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। এখন দর্শকের ভালো লাগলে আমার পরিশ্রম সার্থক হবে।’ ‘নীল রঙের গল্প’ ধারাবাহিকটি ঈদের পর থেকে এনটিভিতে প্রচার হবে।