হঠাত্ নিভে গেল আলো

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯:১৬
সদা হাস্যোজ্জ্বল জনপ্রিয় অভিনেত্রী মিতা নূর যেন অনেকটা অভিমানেই হারিয়ে গেলেন চিরতরে। তার অকাল মৃত্যুতে পুরো সাংস্কৃতিক অঙ্গনেই নেমে আসে বিশাল শোকের ছায়া। কেউই তার আকস্মিক মৃত্যুর এই খবর মেনে নিতে পারছেন না। অভিনেতা ও পরিচালক সালাহউদ্দিন লাভলু বলেন, ‘মিতা নূর নেই, এ বিষয়টি মেনে নেওয়ার মতো নয়। যদি একেবারেই তরুণ বয়সে এমনটা হতো তাহলে হয়তো একটা বিষয় থাকত। কিন্তু তার দুটি মেধাবী ছেলে আছে, সংসার আছে, সুন্দর সাজানো গোছানো এই সংসার ছেড়ে কীভাবে মিতা নূর আত্মহত্যা করতে পারে আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার ‘ভবের হাট’ নাটকে তিনি অভিনয় করেছিলেন প্রথম। এরপর আরও বেশ কয়েকটি নাটকে তিনি অভিনয় করেছিলেন। আমি তার আত্মার শান্তি কামনা করছি।’ অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতি বলেন, ‘মিতা ছিল অনেক প্র্যাকটিক্যাল একজন মানুষ। ও এমন অ্যাবনর্মাল একটি কাজ করবে এটা আমি বিশ্বাস করতেই পারছি না। এই তো ক’দিন আগে আমার বাসায় ‘গুলশান এভিনিউ’য়ের সবাইকে নিমন্ত্রণ করেছিলাম। সবার সাথে মিতাও এসেছিল। কী যে হাসি-খুশি আর আনন্দের মধ্যদিয়ে ও সবাইকে মাতিয়ে রেখেছিল বলে বুঝানো যাবে না। আমি সত্যিই খুব কষ্ট পাচ্ছি। আমি খবরটা পাওয়ার পর ওর বাসায় গিয়েছিলাম। কিন্তু তখন পর্যন্ত পুলিশ ঝুলন্ত লাশ নিচে নামায়নি। তাই শেষ দেখাটাও তাকে দেখতে পারিনি। মিতা তোমার যে স্মৃতি বুকে জমা আছে, তা কোনোদিনও ভুলতে পারব না। আল্লাহ যেন তোমাকে ক্ষমা করে দেন।’ অভিনেত্রী মৌটুসী বিশ্বাস বলেন, ‘মিতা আপুর সাথে আমার কখনোই কাজ করা হয়ে উঠেনি। তাই সেরকম পরিচয়ও ছিল না। কিন্তু মাছরাঙা টেলিভিশনের জন্য একটি ঈদের অনুষ্ঠানে তিনি আমার আমন্ত্রিত অতিথি হয়ে এসেছিলেন। কী যে আদরমাখা ভাষায় তিনি কথা বলেছিলেন ভুলতে পারব না।’ অভিনেতা মীর সাব্বির বলেন, ‘আজ তিনি নেই, এই কষ্টের মাঝেও বলতে ইচ্ছে করছে, আমাদের ছেড়ে মিতা নূর আজ তুমি দূর বহুদূর। মিতা আপা জীবনে একটি নাটকই নির্মাণ করেছিলেন। নাম ‘চৌঙ্গালি’। এই নাটকে তিনি আমাকে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। তার সাথে আমি প্রথম অভিনয় করি বাদল রহমান পরিচালিত ‘চুড়ি’ নাটকে। আমি তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’ ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাপ্তাহিক নাটক ‘সাগর সেঁচা সাধ’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে মিতা নূরের অভিষেক হয়। ১৯৯২ সালে আফজাল হোসেনের নির্দেশনায় অলিম্পিক ব্যাটারির বিজ্ঞাপনে মডেল হয়ে ব্যাপক পরিচিত পান। এই বিজ্ঞাপনের ‘আলো আলো বেশি আলো’ জিঙ্গেলটি সে সময় ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। টিভি নাটকে অভিনয় ও মডেলিংয়ের পথ ধরে ২০১১ সালে নাট্য নির্মাতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন মিতা নূর। ওই বছর ‘চৌঙ্গালি’ নামের একটি খণ্ড নাটক নির্মাণ করেন তিনি। গত ৩০ জুন পর্যন্ত তিনি কায়সার আহমেদ পরিচালিত এটিএন বাংলার প্রচার চলতি ধারাবাহিক নাটক ‘উত্তরাধিকার’-এর শুটিং করছিলেন। মাই টিভিতে ‘চটপটি আড্ডা’ শিরোনামের একটি রান্নার অনুষ্ঠান নিয়মিত উপস্থাপনা করা শুরু করেছিলেন তিনি। ‘কুলসন নানা পদের ইফতার’ নামক আরেকটি অনুষ্ঠানেরও উপস্থাপনা করেছিলেন তিনি। এ অনুষ্ঠানের প্রথম ও শেষপর্বে তাকে উপস্থাপনা করতে দেখা যাবে। অন্যদিকে, স্কয়ার গ্রুপের সৌজন্যে ‘জিরো ক্যাল’ নামের রান্নার অনুষ্ঠানে তাকে মৌটুসী বিশ্বাসের অতিথি হিসেবে দেখা যাবে। মিতা নূর উপস্থাপনা করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। কিছুদিন আগে তার একমাত্র ছেলে প্রিয়’র ‘ও’ লেভেল ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হয়েছে। এরই মধ্যে কয়েকটি ঈদের খণ্ড নাটকের শুটিং করেছিলেন তিনি। এশিয়ান টিভিতে তার অভিনীত ইদ্রিস হায়দার পরিচালিত প্রচার চলতি ডেইলি সোপ ‘সেকেন্ড ইনিংস’-এ লন্ডন ফেরত একজন তরুণীর ভূমিকায় অভিনয় করছিলেন। নাটকে তার অসাধারণ অভিনয় দর্শকের কাছে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পায়। তার প্রচার চলতি অন্য ধারাবাহিক নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে এটিএন বাংলায় নিয়মিত প্রচার হচ্ছে ধারাবাহিক নাটক ‘কানামাছি ভোঁ ভোঁ’, ‘স্কুলমাস্টার’, ‘কুসুমকলি’, ‘ভোমরাদহ কলেজ’।