পুনর্জন্মে সুপারম্যান

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯:১৬
একটি ভিনগ্রহের শিশুর পৃথিবীতে বেড়ে উঠা এবং তার অতিমানবিক ক্ষমতা দিয়ে পৃথিবীকে রক্ষা করে মানুষের মন জয় করা—পরিচিত এই গল্পকে নতুন আঙ্গিকে চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন জ্যাক স্নাইডার। তার পরিচালিত ‘ম্যান অব স্টিল’ সুপারহিরো সুপারম্যানেরই নতুন সংস্করণ। আমেরিকান সুপারহিরো নিয়ে সিনেমা ‘ম্যান অব স্টিল’ মুক্তি লাভের পর পরই পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই সাড়ে ২২ কোটি ডলার বাজেটের এই সিনেমা উঠিয়ে ফেলতে সক্ষম হয়েছে এর মূলধন। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রুতই ‘ডার্ক নাইট’, ‘অ্যাভেঞ্জার্স’, ‘স্পাইডারম্যান’, ‘আয়রনম্যান’-এর মতো সুপারহিরো সিরিজগুলোর আয়ের রেকর্ড ভাঙতে সক্ষম হবে এটি। আলোচিত এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে লিখেছেন প্রাঞ্জল সেলিম আর দশটা গতানুগতিক সুপারহিরো ফিল্মের মতো কেবল মেধাহীন মারামারির দৃশ্য দিয়ে সাজানো হয়নি ‘ম্যান অব স্টিল’-এর গল্প। আগের ‘সুপারম্যান’ সিনেমাগুলোর মতো কেবল সুপারম্যানের অতিমানবীয় শক্তি এবং পৃথিবীকে বাঁচানোর বীরত্বগাথা বলার মাধ্যমেই শেষ হয়ে যায়নি এটি। ‘ম্যান অব স্টিল’-এর মাধ্যমে নির্মাতারা যেন বলার চেষ্টা করেছেন, ভিনগ্রহের এই অতিমানবেরও রয়েছে একটি করুণ মানবিক দিক, এক বিপর্যস্ত পারিবারিক অতীত এবং সাধারণ মানুষের মতোই অতীত নিয়ে পিছুটানের অসহায় মানসিক যন্ত্রণা। অনেক বেশি ‘মানবিক’ এই সুপারহিরোর জীবন এবং আন্তর্জাগতিক ক্ষমতার লড়াইয়ে জেনারেল জডকে পরাভূত করার টানটান উত্তেজনার এই সিনেমায় দর্শকরা খুঁজে পেয়েছেন নতুন প্রজন্মের এক ‘সুপারম্যান’কেই। সিনেমাটি শুরু সুপারম্যানের জন্মের দৃশ্য দিয়ে। ক্রিপ্টন গ্রহের অধিবাসী জর-এলের (রাসেল ক্রো) স্ত্রী লারা লর-ভ্যানের (আইলেট জুরার) গর্ভে জন্ম নেয় গ্রহটির একমাত্র প্রাকৃতিক উপায়ে জন্ম নেওয়া শিশু কাল-এল (সুপারম্যান)। গ্রহটিতে প্রাকৃতিকভাবে শিশুজন্মের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায়, জন্মের সঙ্গে সঙ্গেই কাল-এলের পরিবার এবং ক্রিপ্টনের ওপর নেমে আসে সুপার ভিলেন জেনারেল জডের (মাইকেল শ্যানন) ক্রোধ। সদ্যজাত শিশুটিকে বাঁচাতে তাই জর-এল ওই মুহূর্তেই রকেটে করে পৃথিবীতে পাঠিয়ে দেয় কাল-এলকে। সেখানে ক্যানসাসের স্মলভিলে একটি পরিবারের সঙ্গে ‘ক্লার্ক কেন্ট’ নামে সাধারণ আর দশটা মানবশিশুর মতোই বেড়ে উঠতে থাকে সে। আস্তে আস্তে নিজের অতিমানবীয় শক্তি সম্পর্কে সচেতন হতে শুরু করে শিশুটি। অবশেষে পরিণত বয়সে এসে ক্লার্ক জানতে পারে নিজের সত্যিকারের ইতিহাস এবং আবিষ্কার করে,পৃথিবীকে ধ্বংস করার জন্য জেনারেল জডের অশুভ পরিকল্পনা। জডের প্রতিহিংসা থেকে মানব জাতিকে বাঁচাতে ক্লার্ক আবির্ভূত হয় ‘সুপারম্যান’ হিসেবে। নতুন ধরনের এই সুপারম্যানের রূপায়ণের জন্য বেশ কয়েকটি অডিশনের পর হেনরি ক্যাভিলকেই মনে ধরে নির্মাতাদের। ৩০ বছর বয়সী ক্যাভিল এর আগেও একবার সুপারম্যান চরিত্রের জন্য অডিশন দিয়েছিলেন; কিন্তু ২০০৬-এর ‘সুপারম্যান রিটানর্স’ নামের সেই সিনেমায় তাকে হারিয়ে চরিত্রটি বাগিয়ে নিয়েছিলেন ব্র্যান্ডন রুথ। ছয় বছর আগে হারানো সেই সুযোগ আবারও পেয়ে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন ক্যাভিল। চরিত্রটির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে ওই সময়ে দৈনিক ৫০০০ ক্যালরির খাবার খেতেন তিনি, দেহ গঠনের জন্য টানা আট ঘণ্টার জন্য জিমনেশিয়ামে কাটাতেন। আর এভাবেই প্রথম ব্রিটিশ অভিনেতা হিসেবে ক্যাভিল সুযোগ পেয়ে যান ‘সুপারম্যান’ চরিত্রে; সুযোগ ঘটে একই সিনেমায় রাসেল ক্রো, কেভিন কস্টনার, মাইকেল শ্যানন, লরেন্স ফিশবার্গদের মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করার। প্রচুর স্পেশাল ইফেক্ট ও অ্যাকশন দৃশ্যে ভরা মুভিটি। স্পেশাল ইফেক্টের দৃশ্যগুলো দেখে বোঝা যাচ্ছিল জ্যাক স্নেইডার মুভিটা নিজের মতো করে বানানোর চেষ্টা করেছেন। তার একটা নিজস্ব স্টাইল আছে। একটু ডার্ক ব্যাকগ্রাউন্ডে ন্যারেটিভ স্টাইল আর প্রচুর স্পেশাল ইফেক্ট। সব মিলিয়ে ‘ম্যান অব স্টিল’কে অনেকেই বলছেন সুপারম্যান সিরিজের পুনর্জন্ম হিসেবে। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে আসায়, প্রযোজকরাও এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন এই সিরিজের আরও সিক্যুয়াল তৈরির।