৪ দিনব্যাপী ব্রতচারী প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ১৯:২০
সম্প্রতি ‘ব্রতচারী’ আয়োজিত বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর সহযোগিতায় ৪ দিনব্যাপী ব্রতচারী প্রশিক্ষণ কর্মশালা পরবর্তী অভিপ্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয় চিত্রশালার প্লাজায়। সভায় ব্রতচারী ও গুরুসদয় দত্তকে নিয়ে আলোচনা করেন ও প্রশিক্ষণার্থীদের সনদ প্রদান করেন প্রধান অতিথি শিল্পী কাইয়ূম চৌধুরী, বিশেষ অতিথি শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, ‘বাংলার ব্রতচারী সমিতি’, কোলকাতা, ভারতের শিক্ষণ সচিব অহিন্দ্র ভূষণ সাহা ও অশোক রাউত। সভায় সভাপতিত্ব করেন ব্রতচারী, বাংলাদেশের সভাপতি সনজীদা খাতুন। গুরুসদয় দত্ত জ্ঞান শ্রম সত্য ঐক্য আনন্দ এই পঞ্চব্রতকে জীবনের মূলচাবিকাঠি মনে করে প্রকৃত মানুষ গড়ার যে প্রচেষ্টা নেন তাই হল ব্রতচারী আন্দোলন। এ ছাড়াও বাঙালির লোক ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং লোকনৃত্যগীতের চর্চার জন্য ব্রতচারী আন্দোলন শুরু করেছিলেন। ‘ব্রত’ শব্দের অর্থ তপস্যা ও সংযমের সংকল্প। বিশেষ ব্রত নিয়ে যারা চলে, তারাই ব্রতচারী। ব্রতচারীকে প্রথমেই পাঁচটি ব্রতে আস্থা আনতে হয়। জ্ঞান, শ্রম, সত্য, ঐক্য আর আনন্দ হচ্ছে এই পঞ্চব্রত। জীবনের পথে জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। শ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা ও কায়িক শ্রমের প্রয়োজন উপলব্ধি করেছেন গুরুসদয়। সত্যনিষ্ঠা সমাজ-জাতি-দেশ এবং সর্বমানবের কল্যাণের সহায়ক। ‘ঐক্য’ প্রসঙ্গে প্রচলিত বচনই রয়েছে ‘একতাই বল’, বলা আছে ‘দশে মিলি করি কাজ/হারি জিতি নাহি লাজ’। শেষ ব্রত ‘আনন্দ’ কঠিন সাধনাকে সহজ আর সুবহ করে। একালে এসব খুব ফাঁকা-কথা মনে হতে পারে। কেননা মূল্যবোধ বিপর্যস্ত হয়ে সমাজের মানুষ আজ বেপথু। কিন্তু দেশ-কাল-সমাজের স্বস্থ হবার উপায় ব্রতচারী চর্চা। সমাজ সেবাব্রতী গুরুসদয় দত্ত প্রণীত বিধিমালা ব্রতচারীকে দেশপ্রেম, ঐতিহ্যপ্রীতি, শিষ্টাচার ও সামাজিক আচরণ, যেমন বাক্সংযম, স্বরসংযম, ভাষাব্যবহারের আদর্শ (খিচুড়ি ভাষায় বলিব না) শিক্ষা দেয়। ব্রতচারীর জন্যে আরও আছে—রাগ-ভয়-ঈর্ষা-লজ্জা-ঘৃণা বর্জনের নির্দেশ। পরস্পর দেখা হলে হাত তুলে ‘জয় সোনার বাঙলা’ (জসোবা) সম্ভাষণ আজ আমাদের সবাইকে বাঙালিত্বে প্রতিষ্ঠিত করে বাংলাকে সর্বজয়ী করবার আকাঙ্ক্ষায় উদ্দীপ্ত করবে। আলোচনা শেষে ব্রতচারী অভিপ্রদর্শনীতে ছন্দাত্মক ব্যায়াম, ভূমিপ্রেমের তিন উক্তি, পঞ্চব্রত, ব্রতচারী প্রতিজ্ঞা, বার পণ, বাংলা ভূমির দান, সারি নৃত্য, তরুণদল, কাঠি নৃত্য, মানুষদল, আমরা বাঙালি ও রায়বেশে পরিবেশন করেন ৪ দিনব্যাপী কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থী এবং ‘ব্রতচারী’, বাংলাদেশের ঢাকা মহানগর শাখা, কেরাণীগঞ্জ শাখা ও শেরপুর শাখার ব্রতচারীবৃন্দ।