শেয়ারবাজারের সূচকে মিশ্রভাব বেড়েছে লেনদেন

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২০:৫৮
গতকাল বুধবার দেশের উভয় শেয়ারবাজারের সূচকে মিশ্রভাব দেখা গেছে। ওঠানামার মধ্যদিয়ে সূচক মাত্র ৭ পয়েন্ট বাড়লেও লেনদেনে বড় ঊর্ধ্বগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জুন ক্লোজিংয়ের চাপ শেষে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ক্রয়ের চেষ্টা করছেন। ফলে বাজারে লেনদেন বাড়ছে। এটা ইতিবাচক। আইডিএলসি’র দৈনন্দিন বাজার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ডিএসই’র সাধারণ মূল্যসূচক সাড়ে চার হাজার অতিক্রম করায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থা বেড়েছে। ফলে লেনদেন বাড়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি আসন্ন রমজানেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা অব্যাহত থাকার প্রত্যাশায় শেয়ারবাজারে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। গতকাল বাজারে লেনদেনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে ছিল জ্বালানি খাত। এ খাতে লেনদেন হয়েছে বাজারের মোট লেনদেনের প্রায় সাড়ে ২৭ শতাংশ। গতকাল বাজারে বেশি লেনদেন হওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে ৭টিই জ্বালানি খাতের। এদিকে দাম বাড়ার ক্ষেত্রেও বাজারে প্রাধান্য ছিল এ খাতের। জ্বালানি খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের দাম আগের দিনের তুলনায় প্রায় ১ দশমিক ৫৪ শতাংশ বেড়েছে। তথ্যে দেখা গেছে, গতকাল ডিএসই’র ব্রড ইনডেক্স (ডিএসইএক্স) আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৭ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ২৩১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। সাধারণ মূল্যসূচক ২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৫০৩ পয়েন্টে। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৮০৫ কোটি ১৯ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। যা আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৪৩ কোটি টাকা বেশি। লেনদেনকৃত ২৮৭টি কোমপানির মধ্যে দাম বেড়েছে ১১৮টির, কমেছে ১৫৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ১২টির। এদিকে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সূত্রে জানা গেছে, পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতে নতুন দু’জন আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত আইনজীবীরা হলেন প্রবীর নাগরি এবং রেজাউল করিম চৌধুরী। শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাসমূহ পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনজীবীদের কার্যক্রম সন্তোষজনক না হওয়ায় গত ফেব্রুয়ারিতে বিএসইসির ৪৬৯তম কমিশন সভায় নতুন আইনজীবী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়। তবে আইনজীবী ড. এ কে এম আলীর কার্যক্রম সন্তোষজনক হওয়ায় তাকে বহাল রাখা হচ্ছে। ১৯৯৬ সালে শেয়ার কেলেঙ্কারির প্রেক্ষিতে বিএসইসি ১৯৯৭ সালের ৩ এপ্রিল ১৫টি কোম্পানি এবং ৩৬টি ব্রোকারেজ হাউজ মালিকের বিরুদ্ধে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম একেএম আবদুস সালামের আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিএসইসির দায়ের করা ১৫টি মামলার মধ্যে ১৩টি মামলা উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত আছে। এ মুহূর্তে আরও দুটি মামলা চলমান আছে।