নিম্নগামী ধারায় রেমিট্যান্স

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২০:৫৯
সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে (২০১২-১৩) অন্য ১১ মাসের তুলনায় সবচেয়ে কম রেমিট্যান্স এসেছে অর্থবছরের শেষ মাস জুনে। এ মাসে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ১০৫ কোটি মার্কিন ডলার সমপরিমাণের রেমিট্যান্স দেশে পাঠিয়েছেন। দেশের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতায় বিনিয়োগে মন্দা ও ডলারের অব্যাহত দরপতনের কারণেই রেমিট্যান্স কমছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রানীতি বিভাগের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, গত অর্থবছরে (জুলাই-জুন) প্রবাসীরা মোট এক হাজার ৪৪৬ কোটি পাঁচ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠিয়েছে। অন্যদিকে ২০১১-১৩ অর্থবছরে রেমিট্যান্স এসেছিল এক হাজার ২৮৪ কোটি ৩৪ লাখ মার্কিন ডলার। সে হিসাবে আগের অর্থবছরের চেয়ে গত অর্থবছরে ১৬১ কোটি ৭১ লাখ মার্কিন ডলার বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। অবশ্য গতবছর রেমিট্যান্স বাড়লেও আগের মাসগুলোর তুলনায় গত তিন মাস ধরে রেমিট্যান্স প্রবাহ ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৪৫ কোটি ৩৬ লাখ মার্কিন ডলার সমপরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছিল অক্টোবর মাসে। আর গত মাস অর্থাত্ জুনে সবচেয়ে কম ১০৫ কোটি ৭৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসেছে। এছাড়া অন্যান্য মাসের মধ্যে জুলাই মাসে এসেছিল ১২০ কোটি ডলার, আগষ্ট ও সেপ্টেম্বরে ১১৭ কোটি ডলার করে, নভেম্বরে ১১০ কোটি, ডিসেম্বরে ১২৮ কোটি, জানুয়ারিতে ১৩২ কোটি ডলার, ফেব্রুয়ারিতে ১১৬ কোটি, মার্চে ১২২ কোটি, এপ্রিলে ১১৯ কোটি ও মে মাসে ১০৭ কোটি ৯৩ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল। জুনে আসা রেমিট্যান্সের মধ্যে ৩৭ কোটি ১৬ লাখ ডলার এসেছে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন চার বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং এক কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে বিশেষায়িত দু’টি ব্যাংকের মাধ্যমে। আর বেসরকারি ২৯টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে ৬৫ কোটি ৯১ লাখ ডলার এবং বিদেশি নয় বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স এসেছে এক কোটি ৪৭ লাখ ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, টাকার বিপরীতের ডলারের চাঙ্গা ভাবের কারণে গত অর্থ বছরের প্রথম থেকেই প্রবাসীরা বেশি বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছিলেন। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম কমে যাওয়ায় প্রবাসীদের কম পরিমাণে রেমিট্যান্স পাঠানোর প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এছাড়া বর্তমান রাজনৈতি অস্থিরতায় দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ অনুকূল না থাকায় দেশে অর্থ পাঠানো কমিয়ে থাকতে পারে বলে তারা মনে করছেন।