ঢাকা ওয়াসায় অডিট আপত্তির পাহাড়। এ পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার আপত্তি রয়েছে। ঢাকা ওয়াসার একটি প্রচলিত কথা সিস্টেম ‘লস’ কমিয়ে আনলেও অডিট আপত্তি দিনদিন বেড়েই চলেছে। চলতি মাসের মধ্যেই সকল অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করার জন্য ঢাকা ওয়াসাকে সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়েছে।
সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, ঢাকা ওয়াসার অডিট আপত্তির ব্যাপারে সরকারি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির নিকট প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে এ পর্যন্ত ঢাকা ওয়াসার অনিষ্পন্ন অডিট আপত্তি এক হাজার ৮৪৯ কোটি টাকার। কিন্তু কি কারণে দিনদিন অডিট আপত্তির সংখ্যা বাড়ছে সে সম্পর্কে ঢাকা ওয়াসার নিকট থেকে কমিটি কোন ধরনের সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পায়নি।
সূত্র জানায়, কমিটি সমপ্রতি অডিট আপত্তি দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ সেল গঠনের মাধ্যমে ক্র্যাশ প্রোগ্রাম নিতে বলেছে। সেল গঠনের পাশাপাশি চলতি মাসের মধ্যেই সকল অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলা হয়েছে। এদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীন ঢাকা পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (ঢাকা ওয়াসা) সুষ্ঠু ও বিচক্ষণ বাণিজ্যিক নিয়ম-নীতি অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কিনা মন্ত্রণালয়কে খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেয়া হয়।
সংসদ সচিবালয়ে জমা দেয়া ঢাকা ওয়াসার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীতে ওয়াসার সিষ্টেম লস ছিলো শতকরা ৪৮ ভাগ। গত চার বছরে তা কমে শতকরা ২৯ ভাগ হয়েছে। সংসদীয় কমিটি বলেছে, সিস্টেম লস না থাকলে রাজধানীতে পানি সংকট সহনীয় পর্যায়ে চলে আসতো। চার বছরে শতকরা ১৯ ভাগ সিস্টেম লস কমানো সম্ভব হলে অবশিষ্ট সিষ্টেম লস ওয়াসাকে দ্রুততার সাথে কমিয়ে আনতে হবে। আর এ জন্য ওয়াসার লাইনের যেসব স্থানে লিকেজ রয়েছে তা বন্ধ করতে হবে। সে সাথে ওয়াসার কম্পিউটারাইজেশন দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে।
সূত্র আরও জানায়, কমিটি ঢাকা ওয়াসার আদলে চট্টগ্রাম ওয়াসা কর্তৃপক্ষকে চলতি মাসের মধ্যেই তাদের সকল অডিট আপত্তি নিষ্পত্তি করতে বলেছে। চট্টগ্রামের ভাণ্ডার ঝুরি খালকে পানির রিজার্ভার হিসাবে ব্যবহারের উপযোগিতা যাচাই এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটির পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।
