মোবারকসহ কয়েকজনের সহায়তায় হত্যা করা হয় ৩৩ জনকে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২১:৫২
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের সাবেক নেতা মো. মোবারক হোসেনের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের পঞ্চম সাক্ষী আলী আকবর। বুধবার বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ দেয়া জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ২২ আগস্ট মোবারক আলীসহ কয়েকজন রাজাকারের সহযোগিতায় গঙ্গাসাগর দীঘির পাড়ে ৩৩জনকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়। আখাউড়া থানার টানমান্দাইল গ্রামের বাসিন্দা আলী আকবর বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় বয়স আমার ছিলো ২২ বছর। ১৯৭১ সালের ১৯ আগস্ট আমাদের গ্রামের পাশের তিনলাখপীর নামক স্থানের ব্রিজ এলাকাবাসীর সহায়তায় মুক্তিযোদ্ধারা ভেঙে দেয়। ২১ আগস্ট বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর ২২ আগস্ট রাজাকার মোবারক আলী, মুক্তা মিয়া, বজু মিয়া, শহীদ মিয়া, গ্রামের নূর বক্সের বাড়িতে গ্রামের লোকজনকে জড়ো হতে বলে। ঐদিন তিনটার দিকে আমরা গ্রামের ১৩০-১৩২ জন লোক নূর বক্সের বাড়িতে জড়ো হই। জড়ো হওয়ার পর মোবরক আলীসহ অন্যান্য রাজাকার জানতে চায় কার কার আত্মীয় মুক্তিযুদ্ধে গেছে। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা নূর বক্সের বাড়ি ঘিরে ফেলে। সেনাদের নির্দেশে রাজাকাররা আমাদের রশি দিয়ে বেঁধে ফেলে। পরে নৌকাযোগে আমাদের গঙ্গাসাগর দীঘির পাড়ে আর্মি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে সেনারা আমাদের মারধর করে। পরে ৩৩ জনের তালিকা করে তাদের তেরঝুড়িতে (রাজকাচারি হাজতখানা) আটকে রাখা হয়। আর আমাদের একটি মসজিদে রাখে। পরে ঐ ৩৩ জনকে নিয়ে রাত আটটার দিকে গঙ্গাসাগর দীঘির পাড়ে নিয়ে তাদের দিয়ে গর্ত খোড়ায়। এরপর সেখানেই ব্রাশ ফায়ার করে তাদের হত্যা করে মাটি চাপা দেয়া হয়। ব্রাশ ফায়ারের সময় মসজিদে থেকেই আমরা তাদের চিত্কার শুনতে পাই। ঐদিন যারা নিহত হয়েছিলেন তাদের মধ্যে শহীদ ফয়েজ মিয়া, তারু মিয়া, মন্নাফ মিয়া, আবুল হাশেম মোল্লা, সোবহান মিয়া, তাহের ডাক্তার, গণি মিয়া অন্যতম। জবানবন্দি শেষে তাকে জেরা করেন আসামিপক্ষের আইনজীবী আহসানুল হক হেনা। জেরা শেষে মামলার কার্যক্রম আগামী ১৪ জুলাই পর্যন্ত মুলতবি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মোবারকের বিরুদ্ধে গত ২৩ এপ্রিল মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়। এদিকে, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ বিএনপি নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী আবদুল আলীমের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় গতকাল রাষ্ট্রপক্ষের ৩২তম সাক্ষী রফিকুল ইসলাম সাক্ষ্য দিয়েছেন।