হুমকিতে রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৩, ২২:৪০
রাজশাহী মহানগরীর পশ্চিমে পবা উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের সোনাইকান্দি এলাকায় পদ্মার বামতীরে ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে জরুরি পদক্ষেপ না নেয়া হলে পূর্বে রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ ভাঙনের হুমকির মুখে পড়বে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ভাঙনের বিষয়টি ঢাকায় বোর্ডের প্রধান কার্যালয়ে জানানো হয়েছে। পাউবো সূত্র জানায়, গত ১ জুন রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ৯ দশমিক ৫ মিটার। একমাসে পদ্মার পানি ৫ মিটারের বেশি বেড়ে ১ জুলাই ১৪ দশমিক ৫৭ মিটার উচ্চতা দাঁড়ায়। ২ জুলাই রাজশাহীতে পদ্মার পানির উচ্চতা ছিল ১৪ দশমিক ৮৭ মিটার। হরিপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ডের মেম্বার কামরুজ্জামান বাদল সাংবাদিকদের বলেন, ১৫ দিন আগে সোনাইকান্দি এলাকায় পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে স্রোত ও ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে। বেড়পাড়া থেকে সোনাইকান্দি ও নবগঙ্গা পর্যন্ত ২ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে চলছে ভাঙনের তাণ্ডব। ইতিমধ্যে প্রায় ২শ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ওই এলাকা ব্লক দিয়ে পিচিং না করায় অরক্ষিত ছিল। ইতিমধ্যে ৫নং সোনাইকান্দি আই বাঁধ, শত শত বিঘা আবাদি এবং ফলের বাগানের জমি ছাড়াও রাজশাহী শহররক্ষা বাঁধ ভাঙনের হুমকির মুখে রয়েছে। হরিপুর ইউপি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম পদ্মার ব্যাপক ভাঙনের বিষয়টি রাজশাহী পাউবো কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন। গত ২৭ জুন পাউবো কর্মকর্তারা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। কয়েকদিনের ভাঙনে অনেক কৃষকের জমি পদ্মাগর্ভে বিলীন হয়েছে। জমিতে আখ, পাট ও বিভিন্ন সবিজ ছিল। অসংখ্য বাড়িঘর এবং অনেক জমি হুমকিতে পড়েছে। গোদাগাড়ী উপজেলার চরাঞ্চলে ২০ কিলোমিটার এলাকায় নদী ভাঙন অব্যাহত থাকায় ফসলি জমি ও বাড়িঘরসহ কয়েকটি গ্রাম পদ্মায় বিলীন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ২৫টি গ্রাম হুমকির মুখে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে গোদাগাড়ী মডেল থানা, রেলবাজার ও ডাকবাংলো।