চিনি কিনলে তবেই মিলছে সয়াবিন তেল, ছোলা ও মসুরের ডাল। এছাড়া শুধু সয়াবিন তেল বিক্রি করা হচ্ছে না। অথচ ‘এটা কিনলে ওটা দেয়া যাবে কিংবা একজন ক্রেতাকে সব পণ্যই একসঙ্গে কিনতে হবে’ এমন কোন শর্তই জুড়ে দেয়নি ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ ( টিসিবি); কিন্তু টিসিবির ডিলাররা এসব অদ্ভুত শর্ত জুড়েই পণ্য বিক্রি করছে। ফলে বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। বাধ্য হয়ে কিনতে হচ্ছে একটির সঙ্গে আরেকটি পণ্য। এসব নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগের অন্ত নেই। এছাড়া ওজনে কম দেয়া হচ্ছে এমন অভিযোগও করেছেন অনেকেই।
সম্প্রতি সরেজমিনে টিসিবির ডিলারদের বিভিন্ন বিক্রয় কেন্দ্র (খোলা ট্রাকে) দেখতে গেলে ক্রেতারা এসব অভিযোগ করেন। রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের পূর্বপাশে রাখা খোলা ট্রাক থেকে টিসিবির পণ্য কিনতে আসা ক্রেতা ফরিদ বলেন, চিনি না কিনলে সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল দিচ্ছে না। এছাড়া চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে চিনি কিনতেও বাধ্য করা হচ্ছে। আরেকজন ক্রেতা সাহাবুদ্দিন বলেন, আমি এক কেজি করে চিনি, মসুর ডাল ও ছোলা চেয়েছি; কিন্তু তারা এক কেজি করে বিক্রি করতে চাচ্ছে না। শেষে দুই কেজি করে কিনতে বাধ্য হয়েছি। এছাড়া তারা ওজনেও কম দিচ্ছে। পাশেই সচিবালয়ের কর্মচারী আনিছ বলেন, আমার প্রয়োজন শুধু সয়াবিন তেল; কিন্তু তারা শুধু সয়াবিন তেল বিক্রি করবে না। এরসঙ্গে চিনি, মসুর ডাল ও ছোলাও কিনতে হবে!
এ প্রসঙ্গে বিক্রেতা জাফর বলেন, টিসিবি থেকে মাত্র ২০০ লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেল দেয়া হয়। যা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। তাই সয়াবিনের সঙ্গে অন্য পণ্যও বিক্রি করতে হয়। তবে ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করে বলেন, তাড়াহুড়ার সময় ওজনে উনিশ-বিশ হতে পারে। টিসিবির ডিলার এসোসিয়েশনের সভাপতি জুয়েল আহমেদ বলেন, একজন ক্রেতাকে চারটি পণ্যই কিনতে হবে এমন কোন শর্ত টিসিবির পক্ষ থেকে দেয়া হয়নি। তবে টিসিবি যে বরাদ্দ দিয়েছে তাতে চিনির পরিমাণ বেশি। অন্যান্য পণ্যের পরিমাণ কম। চিনি বেশি দেয়ায় দিন শেষে অনেক চিনি অবিক্রীত থেকে যাচ্ছে। এছাড়া টিসিবির চিনি এবং সরকার খোলাবাজারে বিক্রির জন্য চিনির যে দর নির্ধারণ করেছে তাতেও পার্থক্য খুব কম।
এ প্রসঙ্গে টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সারোয়ার জাহান তালুকদার গতকাল ইত্তেফাককে বলেন, ডিলাররা যেন কোন বিশেষ পণ্য কিনতে বাধ্য না করে সে বিষয়টি দেখা হবে। একজন ক্রেতার যে পণ্যের চাহিদা রয়েছে তার কাছে সেই পণ্যই বিক্রি করতে হবে। তিনি বলেন, ওজনে কম দেয়ার অভিযোগ আমি আগেও পেয়েছি। যে কারণে ট্রাকের সাথে টিসিবির লোক দেয়া হয়েছে। তারপরও বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে। উল্লেখ্য, রমজানে বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য গত ২৩ জুন থেকে টিসিবি সারাদেশে স্বল্প মূল্যে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি শুরু করেছে।
