ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় বিদ্যুতের লোডশেডিং, ট্রান্সফরমার বিকল, বিদ্যুত্ সরবরাহ লাইনে ত্রুটি, কর্তৃপক্ষের গাফিলতিসহ নানা কারণে গ্রাহকরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন। ৩০ বছরের পুরাতন জরাজীর্ণ বিদ্যুত্ সঞ্চালন লাইনে চলছে বিতরণ ব্যবস্থা। তাই আকাশে মেঘ দেখলেই কর্তৃপক্ষ বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়। একটু ঝড় হলেই দিনের পর দিন বিদ্যুত্ সরবরাহ বন্ধ থাকে।
জানা যায়, লাইনে ত্রুটি অথবা ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে প্রতিদিনই দিনের অধিকাংশ সময় গৌরীপুরবাসীকে কাটাতে হচ্ছে বিদ্যুিবহীন অবস্থায়। একদিকে লোডশেডিং অন্যদিকে স্থানীয় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গৌরীপুরবাসী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সর্বোচ্চ ১০/১২ ঘণ্টা বিদ্যুত্ পাচ্ছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের পাশাপাশি সঞ্চালন লাইনে ত্রুটির কারণে এলাকার বিদ্যুত্ গ্রাহকদের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। সামনে রমজান মাসে এ দুরবস্থা কি আকার ধারণ করে তা নিয়ে শংকিত গৌরীপুরবাসী।
পিডিপিসূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুরে ১৯৮১ সনে উপজেলায় পিডিবি’র ৩৩ হাজার কেভি ওয়াটের উপ-বিদ্যুত্ বিতরণ কেন্দ্রটি স্থাপন করা হয়। প্রতি দশ বছর পর পর লাইনের তার পরিবর্তনের বিধান থাকলেও বিদ্যুত্ বিতরণের উপকেন্দ্রটি স্থাপনের পর ৩০ বছর অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত বিদ্যুত্ লাইনের তার পরিবর্তন করা হয়নি। ২০০২ সালে সঞ্চালন লাইনের তার ও খুঁটি পরিবর্তনের টেন্ডার হলেও অসত্ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদার শুধু খুঁটি পরিবর্তন করে পুরনো তার লাগিয়ে নতুন তার বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। আবরণবিহীন পুরনো আলুমিনিয়ামের তার, লোহা, আরসিসি’র অধিকাংশ খুঁটি ও একাধিক সংস্কার করা পুরনো ট্রান্সফরমারগুলো বদল না করে জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যুত্ সরবরাহ কোনরকমে টিকিয়ে রাখা হয়েছে। উপজেলার পৌর শহর ও শহরতলীতে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে সম্প্রসারিত বিদ্যুত্ প্রবাহের রাবার ইনসুলেশনবিহীন অ্যালুমিনিয়ামের তারগুলো বর্তমানে কর্মক্ষমতা হারিয়ে অত্যধিক দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে একটু বাতাস ও কাকজাতীয় একটু ওজনের কোন পাখি বসলেই তার ঝুলে পড়ে পজেটিভ-নেগেটিভ তারের সাথে জড়িয়ে প্রতিনিয়ত শর্টসার্কিট হয়ে যখন-তখন তার ছিঁড়ে পড়ছে এবং বিদ্যুত্ বিভ্রাট ঘটছে। এতে করে গ্রাহকের ফ্রিজ, টিভি ও অন্যান্য মূল্যবান ইলেক্ট্রনিক্স সামগ্রী নষ্ট ও জ্বলে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে পিডিবি’র লাখ লাখ টাকার ট্রান্সফরমার। পিডিবি’র গৌরীপুর আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ বিল্লাল হোসেন এলাকার নাজুক বিদ্যুত্ ব্যবস্থার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, প্রতি সপ্তাহে ২/৩টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ, অতিরিক্ত লোডের কারণে সহস্রাধিক গ্রাহক প্রায়শ থাকছে অন্ধকারে। গৌরীপুর উপজেলার বিদ্যুত্ ব্যবস্থার মানোন্নয়নে ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।
