শেষ মুহূর্তে এসে নানা অভিযোগের বাণে জর্জরিত হয়ে পড়ছেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নান। বকেয়া কর আদায়ের জন্য তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে এনবিআর। এমনকি প্রয়োজনে সম্পত্তি ক্রোক করে টাকা আদায়ের হুমকিও দেয়া হয়েছে। অপরদিকে ১৯৯১ সালে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে হজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
যত অভিযোগ : ১৯৯১ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের যে কোন প্রার্থীর চাইতে সর্বাধিক ভোট পেয়েছিলেন এম এ মান্নান। তার পুরষ্কারস্বরূপ তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসাবে তার বিরুদ্ধে হজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। হজের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এই নির্বাচনে এম এ মান্নানকে ঘায়েলের প্রধান অস্ত্র হয়ে উঠেছে।
গাজীপুরবাসীর অভিযোগ, সৌদি আরবে হাজীদের বাড়িভাড়ার কয়েকশ কোটি টাকা আত্মসাত্ করেছেন মান্নান। সেই সময় এ ঘটনা দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। ধর্মপ্রাণ মুসুল্লিদের টাকা নিয়ে অনিয়মের কারণে বাংলাদেশে হাজীদের বিক্ষোভের মুখে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে অপেক্ষাকৃত কম গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৯৬ সালে
আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুর্নীতি দমন ব্যুরো তদন্ত করে ঘটনাটির সত্যতা খুঁজে পায়। কিন্তু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ওই অভিযোগটি প্রত্যাহার করে নেয়।
এম এ মান্নানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তার ‘অধ্যাপক’ পদটি নিয়েও। স্থানীয় আজিমউদ্দিন কলেজের শিক্ষক থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি কমিটি সেই ঘটনার তদন্ত করে সত্যতা পেলে তিনি চাকরি থেকে বরখাস্ত হন। তাছাড়া প্রভাষক পদে চাকরি করে অধ্যাপক পদ ব্যবহারের কারণে সমালোচনাও কম হয় না।
এদিকে, এনবিআর চেয়ারম্যান গোলাম হোসেন বলেছেন, কর ফাঁকি নয়, মান্নানের কাছে বকেয়া কর প্রাপ্য। গত ২০০৭-০৮ করবর্ষে তার কাছে এই কর নির্ধারণ করা আছে। তাগাদা দেয়া সত্ত্বেও তিনি দেন নি। মামলা হয়েছিল, আমরা জিতেছি। এখন তার ব্যাংক হিসাব জব্দ করা হয়েছে। প্রয়োজনে মান্নানের সম্পত্তি ক্রোক করেও বকেয়া কর আদায় করা হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এনবিআর বিশেষ উদ্দেশ্যে এই উদ্যোগ নিয়েছে কি না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, নির্বাচনে দাঁড়ালে পাওনা টাকা চাওয়া যাবে না - এটা কোন যুক্তি? তিনি কেন এতদিন বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখলেন? তিনি আয় দেখিয়েছেন কিন্তু আয়ের উত্স দেখান নি। তিনি ঢাকার করদাতা ছিলেন। গাজীপুরে গেলেন কিন্তু সেটা গাজীপুর অফিস জানে না। রাজস্ব আদায় করার জন্য আমরা অনেক হিসাব জব্দ করেছি। সেখানে অনেক বড় রাজনৈতিক নেতাও রয়েছেন।
