অধিনায়কত্ব নিয়ে মুশফিকের ভিন্ন মত

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২২:১৪
বাংলাদেশে হাবিবুল বাশার ছাড়া সব অধিনায়কই ‘সিরিজ-বাই-সিরিজ’ পদ্ধতিতে অধিনায়কত্ব করেছেন। এর আগে সাকিব আল হাসানও প্রকাশ্যে এই পদ্ধতির সমালোচনা করেছিলেন। এবার প্রকাশ্যে মুখ খুললেন মুশফিকুর রহিমও। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পাওয়ার পর গতকাল মিরপুর স্টেডিয়ামে সাংবাদিকদের অধিনায়কত্ব নিয়ে বিস্তারিত বললেন মুশফিকুর রহিম— অধিনায়কত্বের মেয়াদ বাড়ানোয় প্রতিক্রিয়া কী? অবশ্যই এটা আমার জন্য ইতিবাচক। আমার ওপর আস্থা রাখায় আমি বোর্ডকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। যতোদিন অধিনায়ক ছিলাম, যতোটা সততার সাথে কাজ করেছি এখনও সেটাই করতে চাই। এখন অধিনায়কত্ব করাটা কী একটু বাড়তি চ্যালেঞ্জের ব্যাপার? আমি খুব বেশি চ্যালেঞ্জ দেখছি না। কারণ, মাত্র একটাই তো সিরিজ। দল এখন ভাল পারফর্ম করছে। চেষ্টা করবো এটা ধরে রাখার। মাঝে জিম্বাবুয়ে সিরিজটা ভাল যায়নি। কিন্তু, খেলোয়াড়রা এখন অনেক পরিশ্রম করছে। আর গত কয়েকটা সিরিজেও আমরা ভাল খেলেছি। তাই ভাল কিছুরই আশা করছি। একটা সিরিজের কথা বলছেন। তাহলে এর চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদে অধিনায়কত্ব নিয়ে ভাবছেন না? এটা সম্পূর্ণই বোর্ডের সিদ্ধান্ত। তাই আমি কি ভাবছি, সেটা এখানে খুব বড় কথা নয়। আমাকে যে সময় পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হয়েছে তাতে মাত্র একটা সিরিজই আমি পাচ্ছি। ফলে একটা সিরিজ নিয়েই ভাবছি। কোচকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব দেয়া হল। অধিনায়কের ক্ষেত্রে সেটা না করার কারণ কী বলে মনে হয়? আমার মনে হয় বাংলাদেশই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে সিরিজ ধরে ধরে অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়। স্বল্প মেয়াদে অধিনায়কত্ব দেয়া একটা ভুল সিদ্ধান্ত। সিরিজ ধরে ধরে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। এটা শুধু আমার জন্য নয়, আমার পর যে অধিনায়ক হবে তার জন্যও চ্যালেঞ্জিং। আর কোচের মেয়াদ ২০১৫ পর্যন্ত করা হয়েছে। গতকালই (গত পরশু) আমি তাকে অভিনন্দন জানিয়েছি। এটা দলের জন্য ইতিবাচক দিক। কোচ এখন একটি লক্ষ্য ঠিক করে কাজ করতে পারবেন। আর অধিনায়কের ক্ষেত্রে এটাই বলবো, যে সামনে যাকেই অধিনায়ক করা হোক না কেন তাকে যেন দীর্ঘমেয়াদী দায়িত্ব দেয়া হয়। এতে সে একটা লক্ষ্য ধরে সামনে এগোতে পারবে। আপনি কী বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়কত্ব পেতে চান? এটা তো আমি প্রস্তাব করতে পারি না। বোর্ড যদি আমাকে যোগ্য মনে করে অধিনায়ক রাখতে চায়, তাহলে অবশ্যই আমি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবো। আমি আগেই বলেছি, আবারও বলছি দীর্ঘমেয়াদে অধিনায়ক দেয়া হলে সবদিক থেকেই ভাল হয়। দলের মধ্যেও সুন্দর পরিবেশ থাকে। এটা করা হলে সেটা বাংলাদেশ দলের ভবিষ্যতের জন্যও ভাল হবে। জিম্বাবুয়েতে হঠাত্ পদত্যাগ করাটাকে আপনি পরে ভুল ও আবেগী সিদ্ধান্ত বলেছেন। অধিনায়কের কী এতো আবেগী হওয়ার সুযোগ আছে? কাজটা অবশ্যই ঠিক হয়নি। আমরা জাতি হিসেবে অনেক বেশি আবেগী। আবেগ দিয়ে আমরা অনেক কিছু জয় করতে পারি। কিন্তু একই সাথে এটাও সত্যি যে কোন কিছুই অতিরিক্ত ভাল না। আমি ভুল করেছিলাম। পরে ভুল বুঝতে পেরেছি। নিউজিল্যান্ডকে আগেরবার হোয়াইটওয়াশ করার ইতিহাসের কারণে এবার আমাদের ওপরই কী চাপ থাকবে? নিউজিল্যান্ডের অবস্থা যে খারাপ, তা কিন্তু নয়। খারাপ দল হলে তো আর ইংল্যান্ডের মাটিতে তাদের হারিয়ে আসতো না। আমাদের মতো ওদের দলেও উত্থান-পতন চলছে। গতবারের নিউজিল্যান্ড সিরিজে আমরা ভাল খেলেছিলাম বলেই জিতেছি। এবারও ভাল খেলতে হবে। সিরিজ জিততে হলে ভাল খেলার বিকল্প নেই। আমি আবারও বলবো, তারা অনেক ভয়ঙ্কর দল। প্রিমিয়ার লিগের তারিখ অবশেষে ঘোষণা হয়েছে। কিন্তু আপনারা যেভাবে দলবদল চেয়েছিলেন, তা তো হচ্ছে না... আমরা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আগে অনেক কথাই বলেছি। কিন্তু বোর্ড আমাদের আশ্বস্ত করেছে গ্রেডিং শুধু এই বছরই চলবে। আর এই বছর আমাদের ক্রিকেট অনেক সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আমরা চাই খেলাটা যেন হয়। তাই সবাই বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে খেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আশা করবো সামনের বছর আর এই সমস্যা হবে না। এই ক্রিকেটের সংকটগুলো; এগুলো কী ক্রিকেটারদের ওপর প্রভাব ফেলে? যা ঘটেছে সেটা মাঠের বাইরের ঘটনা। ক্রিকেটার হিসেবে আমাদের কাজ মাঠের ভিতরে। একজন ক্রিকেটারের জন্য সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল নিজেকে এসব থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করা। বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আপনার কী কথা হয়েছিল? সেখানে অধিনায়কত্বের মেয়াদ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল? মেয়াদের ব্যাপারে আমার সাথে কখনও বোর্ড প্রেসিডেন্টের কথা হয়নি। আশা করছি কয়েকদিনে মধ্যেই বোর্ড প্রেসিডেন্টের সাথে আমার কথা হবে। মাঠের বাইরে তো অধিনায়ককে অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। সেটা কীভাবে সামলাচ্ছেন? অবশ্যই মাঠের বাইরেও অধিনায়কের দায়িত্ব আছে। আমার মনে হয়, ক্রিকেটই একমাত্র খেলা যেখানে অধিনায়কের মাঠের বাইরেও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। একজনের মাঠের বাইরে যেরকম স্বভাবের হয় মাঠেও সেটারই প্রতিফলন ঘটে। তাই, অধিনায়কের দায়িত্ব হল, মাঠের বাইরে খেলোয়াড়দের মোটিভেট করা এবং তাদের ভাল খেলতে উত্সাহ দেয়া। এখন তো বাংলাদেশেও সেই ফিক্সিং কাণ্ড চলে এসেছে। এ নিয়ে খেলোয়াড়দের সতর্ক করার কোনো উদ্যোগ আছে আপনাদের? দলে তো আর কোন অনূর্ধ্ব ১৩ বা অনূর্ধ্ব ১৫ দলের কেউ নেই যে, তাদের বার বার সতর্ক করতে হবে। আমাদের সাথে আমাদের বাবা-মা’র দোয়া আছে। দেশের মানুষ আমাদের জন্য দোয়া করে। এসব নিয়েই আমরা মাঠে নামি। তাই, এসব অন্যায়ের কথা মনে আসার কোন কারণ নেই। আর যেহেতু আমাদের দলকে একসাথে খেলতে হয়; তাই আমরা নিজেদের মধ্যে এই ব্যাপারে আলোচনা করি আর নিজেরা সতর্ক থাকি। এই ফিক্সিং থেকে দূরে থাকতে আসলে ঠিক কী করনীয়? এসময় বাড়তি দায়িত্বতো সবারই নিতে হবে। শুধু অধিনায়ক নয়, ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট যারা আছে, সংগঠক, খেলোয়াড় আর বোর্ডের সবাইকেই বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে; এমনকি সাংবাদিকদেরও দায়িত্ব আছে।