জ্বালানি খাতকে রক্ষার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বীর বিক্রমকে তার পদ থেকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গতকাল বৃহস্পতিবার ক্যাব আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ অনুরোধ জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. শামছুল আলম। এ সময় ক্যাবের সভাপতি কাজী ফারুক, সাধারণ সম্পাক হুমায়ুন কবির ভুঁইয়া ও সহ-সভাপতি নিলুফা বানু উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, বিদ্যুত্ ও জ্বালানি খাতের সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছে। সরকারের পক্ষে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়নি। উপদেষ্টার বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাকে স্বপদে বহাল রেখে সরকারের পক্ষে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব নয়। তাই আগে জ্বালানি উপদেষ্টার পদ থেকে তাকে প্রত্যাহার করা প্রয়োজন।
শামছুল আলম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গ্যাস সংযোগ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও অবৈধ উপায়ে হাজার হাজার সংযোগ দিয়ে এ খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের কাছ থেকে হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এমনকি গ্যাস সংযোগ বৈধকরণের সময়ের পরেও অবৈধ সংযোগ মহামারী আকারে বেড়েছে। এ দুর্নীতিতে নিচ থেকে উপরতলা পর্যন্ত কোনো না কোনোভাবে জড়িত।
লিখিতি বক্তব্যে বলা হয়, রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুত্ কেন্দে র মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে, স্থায়ী করার জন্য কোনোটিকে আইপিপি করা হচ্ছে। উত্পাদন ব্যয় কমানোর জন্য তেলভিত্তিক কেন্দ গুলো বন্ধ রাখা হয়। ডিজেলভিত্তিক কেন্দ গুলোর উত্পাদন ক্ষমতার ৫ শতাংশ এবং ফার্নেস অয়েল চালিত কেন্দ গুলোর ১৫ শতাংশ ব্যবহার করা হয়েছে। ভাড়াভিত্তিক কেন্দ গুলো অধিকাংশ তেলচালিত। তাই বাড়তি বিদ্যুত্ প্রাপ্তির অজুহাতে রেন্টাল ও কুইক রেন্টালের মেয়াদ বাড়ানোর যুক্তি সঙ্গত নয়। এছাড়া আইপিপি ও রেন্টাল ভিন্ন বিধি-বিধানের আওতায় প্রতিষ্ঠিত। তাই এক কেন্দ কে অন্য কেন্দে রূপান্তরে আইনি ঝামেলা রয়েছে। তারপরও বিদ্যুত্ ব্যবসায়ীদের চাপে ও জ্বালানি উপদেষ্টার প্রভাবে কুইক রেন্টাল ও রেন্টালের মেয়াদ বাড়ানো হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কিছু সুপারিশ করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে- দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে গ্যাস খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, মেয়াদ শেষে রেন্টাল ও কুইক রেন্টাল প্রকল্প পরিত্যাগ বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ প্রদান ইত্যাদি। এছাড়াও এ খাতের দুর্নীতির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে একাধিক ভোক্তা প্রতিনিধির সমন্বয়ে পাঁচ থেকে সাত সদস্যের কমিটি গঠনে বিইআরসিকে (বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন) নির্দেশ দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।
