নির্বাচন উত্সবমুখর করতে নিরাপত্তার চাদরে গাজীপুর

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৬
গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সিটি এলাকার সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নির্বাচনী পরিবেশকে উত্সবমুখর রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকম ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেউ যাতে নিরাপত্তাহীনতায় না ভোগেন সেজন্য গড়ে তোলা হয়েছে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়। বিজিবি, র্যাব ও পুলিশের সমন্বয়ে গাজীপুর সিটি এলাকাকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। নির্বাচনী আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য যানবাহনে তল্লাশি ও অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। গাজীপুরের পুলিশ সুপার মোঃ আব্দুল বাতেন জানান, নির্বাচনপূর্ব পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে। অবৈধ প্রভাব বিস্তার রোধ করা হয়েছে। ভোটাররা যাতে নিরাপদে ও উত্সবমুখর পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে, ভোট দিয়ে বাড়ী ফিরতে পারে তার জন্য সব রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কোন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২/৩ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মত প্রস্তুুতি নেয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিধানকল্পে ২৪ জন করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এদের মধ্যে রয়েছে অস্ত্রধারী ৭ জন পুলিশ। এতে থাকবে একজন এসআই, একজন এএসআই ও ৫ জন কনস্টেবল। পাশাপাশি অস্ত্রসহ তিনজন ব্যাটালিয়ন আনসার, একজন আনসার পিসি, একজন এপিসি থাকবে। এছাড়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে ১২ জন আনসার/ভিডিপি সদস্য থাকবে। এর মধ্যে লাঠিসহ ৫ জন মহিলা ও ৭ জন পুরুষ। সাধারণ ভোট কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিধানকল্পে ২২ জন আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্য নিয়োজিত থাকবে। এর মধ্যে অস্ত্রধারী ৭ জন পুলিশ, একজন এসআই, একজন এএসআই ও ৫ জন কনস্টেবল। পাশাপাশি অস্ত্রসহ একজন ব্যাটালিয়ন আনসার, একজন আনসার পিসি ও একজন এপিসি থাকবেন। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে সার্বিক আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রতি তিনটি ওয়ার্ডে ১টি করে মোট ১৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স নিয়োজিত থাকবে। প্রতি দুটি ওয়ার্ডে একটি করে মোট ২৮টি র্যাবের টিম কাজ করবে। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা বিবেচনা করে মোতায়েন করা হবে ১২ প্লাটুন বিজিবি। বিজিবি ইতিমধ্যেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে টহল শুরু করেছে। নির্বাচনী এলাকায় ৫০ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করে যাচ্ছেন। তারা আচরণবিধি লংঘন সংক্রান্ত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করছেন। ভোট গ্রহণের দিন আইন ও বিধি অনুসারে কতিপয় অপরাধের তাত্ক্ষণিক বিচারকার্য সম্পন্ন করার জন্য ১০ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করে ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করা হয়েছে। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা নির্বাচনী এলাকায় গতকাল থেকে শুরু করে ভোটের পরের দুই দিন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচন উপলক্ষে যাতে কোন যানবাহনে বা অন্য উপায়ে অবৈধ পণ্য/বস্তু নিয়ে কেউ প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বিভিন্ন প্রবেশপথে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে এবং পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। পুলিশ, এপিবিএন, ব্যটালিয়ন, আনসার, র্যাব ও বিজিবি সদস্যদের নিয়ে ১৯টি মোবাইল টিম ও স্ট্রাইকিং ফোর্স গঠন করা হয়েছে। রিটানির্ং অফিসার মতিয়ার রহমান জানান, সিটি করপোরেশনে মোট ভোটার সংখ্যা ১০ লাখ ২৬ হাজার ৯৩৮ জন। পুরুষ ৫ লাখ ২৭ হাজার ৭৭৭ জন এবং মহিলা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ১৬১ জন। ভোট কেন্দ্র ৩৯২টি এবং ভোট কক্ষ ২ হাজার ২৩৩টি। অস্থায়ী ভোট কক্ষ ৪২টি। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের মধ্য থেকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য ৩৯২ জনকে প্রিজাইডিং অফিসার, ২ হাজার ৪০৩ জনকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৪ হাজার ৮০৭ জনকে পোলিং অফিসার হিসাবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাচনে দায়িত্ব পালন সম্পর্কিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনী এলাকার কোন কেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে কোন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অথবা তার পক্ষে অন্য ব্যক্তিকে ক্যাম্প স্থাপন করতে দেয়া হবে না। ভোট কেন্দ্রে কোন প্রকারের দাঙ্গা, সন্ত্রাস বা অনিয়ম সংগঠিত হলে কিংবা আইন ও বিধির কোন ব্যত্যয় ঘটলে ভোট গ্রহণ বন্ধ করা হবে। অপরদিকে, প্রার্থীর পক্ষে পোলিং এজেন্টদের (ছবি ও পরিচয়পত্রসহ) তালিকা ভোট গ্রহণের দিন সকাল সাতটার মধ্যে প্রিজাইডিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে, রিটার্নিং কর্মকর্তার দেয়া পরিচয়পত্র বুকে ঝুলিয়ে রাখতে হবে, নিয়োগপত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে হবে। এছাড়া এজেন্টদের বাম বাহুতে নির্ধারিত আর্মড ব্যান্ড বেঁধে রাখা, ভোট গণনা শেষ হবার আগে কক্ষ ত্যাগ না করা, স্বাভাবিক পরিবেশ বিঘ্ন ঘটায় এমন কাজ থেকে বিরত থাকা, পোলিং এজেন্টকে ভোট কেন্দ্রে আসতে বাধা দেয়া হলে বা কক্ষ ত্যাগে বাধ্য করলে লিখিত অভিযোগ করা, নির্ধারিত ফরমে স্বাক্ষর ও ভোট গণনাকালে উপস্থিত থাকা, এজেন্টদের নাম জেনে নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উল্লেখিত প্রতিটি শর্ত মেনে চলতে হবে এজেন্টদের। নির্বাচন উপলক্ষে সকল সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিল্প-কল-কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে নির্বাচনী এলাকার কোন সাধারণ পরীক্ষা থাকলে তা অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনের আগের দিন আজ শুক্রবার রাত ১২টা থেকে নির্বাচনের দিন অর্থাত্ শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বিভিন্ন যানবাহন চলাচল সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত এক চিঠিতে বলা হয়, ৫ জুলাই রাত ১২টা থেকে নির্বাচনের দিন ৬ জুলাই রাত ১২টা পর্যন্ত বেবী টেক্সি, অটোরিক্সা, মাইক্রোবাস, জীপ, পিক-আপ, প্রাইভেট কার, বাস, ট্রাক, টেম্পো প্রভৃতি নির্বাচনী এলাকায় চলাচল করতে পারবে না। এছাড়া শুক্রবার থেকে নির্বাচন পর্যন্ত সকল প্রকার মোটরসাইকেল চলাচলের উপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তবে ময়মনসিংহ মহাসড়ক এ নিয়মের বাইরে থাকবে। এ মহাসড়ক দিয়ে যান চলাচল করতে পারবে। এদিকে, নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার মতিয়ার রহমান গত বুধবার রাতে জারি করা এক আদেশে জানিয়েছেন, গাজীপুর সিটি এলাকার বাসিন্দা নয় এমন বহিরাগতদের কেউ গত বুধবার রাত ১২টা থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় অবস্থান /অনুপ্রবেশ করতে পারবেন না। এসময়ের মধ্যে আইন শৃংখলা বাহিনী ব্যতীত কেউ বৈধ অস্ত্রও বহন করতে পারবেন না।