ব্র্যাক স্কুল সাড়া জাগিয়েছে রাজশাহীতে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ১৮:০৩
রাজশাহীর পবা উপজেলার বিরোস্তাইল গ্রামে ব্র্যাক পরিচালিত ফরমাল প্রাইমারী স্কুল এলাকায় ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছে। ১৯৯৯ সালে প্রত্যন্ত গ্রামে প্রতিষ্ঠিত স্কুলটিতে শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা দান করা হয়। জানা গেছে, প্রতি শ্রেণিতে গড়ে ৪০ জন শিক্ষার্থীর প্রায় অর্ধেক (২০ জন) মেয়ে। মোট ২৪০ জন শিক্ষার্থী নিয়মিত লেখাপড়া করছে। ৬ জন মহিলা শিক্ষক স্কুলটি পরিচালনা করেন। শিক্ষকদের মধ্যে প্রধান শিক্ষক কিংবা সহকারী শিক্ষক বলে কোন ভেদাভেদ নেই, সকলের পদমর্যাদা এবং বেতন বা সম্মানী সমান। একজন শিক্ষক শিশু শ্রেণিতে যে ব্যাচ নিয়ে শিক্ষাদান শুরু করেন, তিনি ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত ঐ ব্যাচের শিক্ষার্থীদেরই শিক্ষাদানের দায়িত্ব পালন করেন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কারিকুলাম অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদান করা হয়। প্রতি বছর ৪০ জন শিক্ষার্থী প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং পাসের হারও শতভাগ। স্কুলটির শিক্ষার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনীর ফলাফল ভাল হওয়ায় চারদিকে সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতি বছর শিশু শ্রেণিতে ৪০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সময় বহু শিশুকে উত্সাহী অভিভাবকরা ভর্তির জন্য নিয়ে আসেন। কিন্তু চাপ সামলাতে স্কুল কর্তৃপক্ষ বাছাই করে ৪০ জন শিক্ষার্থীকেই ভর্তি করে। সরেজমিনে দেখা যায়, ৭ কক্ষ বিশিষ্ট স্কুল বিল্ডিংয়ের ৬টিতে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নেয়া হয়। বাকি একটি কক্ষ শিক্ষকদের কমন রুম হিসেবে ব্যবহূত হয়। স্কুলটিতে কোন বেঞ্চ বা চেয়ার টেবিল নেই। পাকা মেঝের উপর চট (মাদুর বিশেষ) বিছিয়ে শিক্ষার্থীরা হামাগুড়ি দিয়ে বসে লেখাপড়া করে। তবে শিক্ষা ব্যবস্থা একেবারে বিনামূল্যে নয়। শিক্ষার্থীদের নামমাত্র মাসিক বেতন দিয়ে লেখাপড়া করতে হয়। এরপরেও লেখাপড়ার মান ভাল হওয়ায় স্কুলটির প্রতি আশপাশের বিভিন্ন গ্রামের অভিভাবকদের আগ্রহ অনেক বেশি। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ব্র্যাকের রাজশাহী জেলার প্রতিনিধি একেএম জাহেদুল ইসলাম জানান, পবা উপজেলার বিরোস্তাইল গ্রামের একমাত্র স্কুলের সাফল্যে এলাকাবাসী রাজশাহীতে ব্র্যাকের আরো ফরমাল প্রাইমারী স্কুল স্থাপনের জন্য অনুরোধ এমনকি চাপও সৃষ্টি করছে। তাদের অভিমত এলাকার শিশুরা প্রাথমিক পর্যায়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা পেলে ভবিষ্যতের সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠবে বলে স্থানীয় জনগণ মনে করেন।