সেবা খাতের অবদান বর্তমানে শতকরা ৫০ ভাগ এবং দেশের মোট শ্রমশক্তির ৩০ ভাগ লোক এ খাতে নিয়োজিত। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। কৃষি খাতের ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে এবং শিল্প ও সেবা খাতের ভূমিকা বৃদ্ধি পেয়েছে
চারটি নতুন সেবা খাতের মাধ্যমে দেশের মোট জাতীয় উত্পাদন (জিডিপি) প্রায় শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে। খাতগুলো হচ্ছে ডেকোরেটর, নিরাপত্তা সেবা, নিয়োগ সেবা এবং পরিচ্ছন্নতা সেবা। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ব্যবসা সেবা প্রতিষ্ঠান জরিপ ২০১২-এর ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে। এসব খাত থেকে ২০১০-১১ অর্থবছরের জিডিপিতে প্রায় ৩৮ হাজার ৫৮২ মিলিয়ন টাকা যুক্ত হবে।
অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশের জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামপ্রতিককালে বাংলাদেশের জিডিপিতে সেবা খাতের অবদান উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। সেবা খাতের অবদান বর্তমানে শতকরা ৫০ ভাগ এবং দেশের মোট শ্রমশক্তির ৩০ ভাগ লোক এ খাতে নিয়োজিত। বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাঠামোগত পরিবর্তন হয়েছে। কৃষি খাতের ভূমিকা হ্রাস পেয়েছে এবং শিল্প ও সেবা খাতের ভূমিকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে বিবিএস-এর উপ-পরিচালক একেএম আশরাফুল হক জানান, সেবা খাতের সকল ক্ষেত্রের তথ্য সংগ্রহের জন্য বিবিএস-এ নিয়মিত জরিপের কোন ব্যবস্থা নেই। তবে বার্ষিক প্রতিষ্ঠান ও ইনস্টিটিউশন জরিপে সেবা খাতের কিছু তথ্য সংগ্রহ করা হয়। বিবিএস-এর ন্যাশনাল একাউন্টিং উইং জিডিপি প্রাক্কলনের কাজ করে থাকে। কিন্তু সেবা খাতের তথ্যের অপ্রতুলতার জন্য উক্ত খাতের জিডিপি প্রাক্কলনে সেবা খাতের সকল সেক্টরের অবদান পরিপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয় না। সেবা খাতের তথ্যের স্বল্পতা এবং তথ্যের অভাব দূর করার জন্য কয়েকটি নির্ধারিত সেবার উপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর আওতায় ব্যবসা সেবা প্রতিষ্ঠান জরিপ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়। এ সেবাসমূহ যথা:(১) ডেকোরেটর সার্ভিস (২) রিক্রুটিং সার্ভিস (৩) সিকিউরিটি সার্ভিস এবং (৪) ক্লিনিং সার্ভিস। এ জরিপের উদ্দেশ্য হলো ডেকোরেটর সার্ভিস, রিক্রুটিং সার্ভিস, সিকিউরিটি সার্ভিস এবং ক্লিনিং সার্ভিস ইত্যাদি সেবা কর্মকাণ্ড হতে অর্জিত আয় ও ব্যয়ের পরিমাণ এবং এ উপখাতের অবদান নিরূপণ করা। এ খাতে নিয়োজিত মোট জনবল এবং এ সকল উপখাতে জনবল নিয়োগ কি হারে বাড়ছে তা নিরূপণ করা। এ সকল কর্মকাণ্ড পরিচালনায় স্থায়ী সম্পদ কি পরিমাণ ব্যবহূত হচ্ছে তা নির্ধারণ করা।
জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেকোরেটর সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহে ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর্মরত মোট জনবল ছিল ১ লাখ ৪ হাজার ৭৭২ জন। ২০১০-১১ অর্থবছরে কর্মরত মোট জনবল ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ১শ জন। যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ছিল ৯৫ দশমিক ২ এবং ৪ দশমিক ৯৮ শতাংশ। মাসিক জনপ্রতি বেতন-ভাতা ছিল ওই দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ২ হাজার ৬২৪ টাকা এবং ২ হাজার ৮৮৩ টাকা। স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৮ হাজার ৫১০ মিলিয়ন টাকা এবং ৮ হাজার ৪১০ মিলিয়ন টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ওই দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ৫৯ দশমিক ৪১ শতাংশ এবং ৬০ দশমিক ৭০ শতাংশ। ফলাফলে দেখা যায় যে, নিয়োগ সেবা প্রতিষ্ঠানে সংখ্যা সর্বোচ্চ ঢাকায় ৩৯৬টি, যা মোট প্রতিষ্ঠানের ৯৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন সিলেটে ২টি, যা মোট প্রতিষ্ঠানের শূন্য দশমিক ৫২ শতাংশ।
নিয়োগ সেবা প্রতিষ্ঠানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর্মরত মোট জনবল ছিল ৩ হাজার ৭৭৪ জন। যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ৯৭ দশমিক ৩ এবং ২ দশমিক ৯৭ শতাংশ। ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট কর্মরত জনবল ছিল ৩ হাজার ৮৯৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ছিল ৯৬ দশমিক ৫৯ এবং ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। মাসিক জনপ্রতি বেতন ছিল ওই দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ১০ হাজার ৩৫৬ টাকা এবং ১০ হাজার ৬৭৪ টাকা। স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ২ হাজার ৮৮৬ মিলিয়ন টাকা এবং ২ হাজার ৮২০ মিলিয়ন টাকা। নিয়োগ সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রশাসনিক, নির্বাহী, ক্লারিক্যাল ও প্রফেশনাল ওয়ার্কারদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। এ হার যথাক্রমে দুই অর্থবছরে ৭৪ দশমিক ৭০ শতাংশ এবং ৭৪ দশমিক ২৬ শতাংশ।
সিকিউরিটি বা নিরাপত্তা সেবা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সর্বোচ্চ ঢাকায়— মোট ৩৯৯টি, যা মোট প্রতিষ্ঠানের শতকরা ৮২ দশমিক ১৬ ভাগ এবং সর্বনিম্ন বরিশালে ২টি, যা মোট শতকরা শূন্য দশমিক ৪৫ ভাগ। সিকিউরিটি সেবা প্রতিষ্ঠানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর্মরত মোট জনবল ছিল ২ লাখ ৫৫ হাজার ৪৬২ জন, যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ছিল ৯৬ দশমিক ০৫ ও ৩ দশমিক ৯৫ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে কর্মরত জনবল ছিল মোট ২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৪ জন, যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ছিল ৯৫ দশমিক ৭৫ ও ৪ দশমিক ২৫। মাসিক জনপ্রতি বেতন ছিল ওই দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ৬ হাজার ৫০৫ টাকা এবং ৭ হাজার ২ টাকা। স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ৪৩৫ মিলিয়ন টাকা এবং ১ হাজার ৫০৭ মিলিয়ন টাকা। এ খাতে রেগুলার শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা ওই দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ৯২ দশমিক ২৫ এবং ৯২ দশমিক ৫০ শতাংশ।
পরিচ্ছন্নতা সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা সর্বোচ্চ ঢাকায়— ১৮টি, যা মোট প্রতিষ্ঠানের শতকরা ৯০ ভাগ এবং সর্বনিম্ন রবিশালে ও চট্টগ্রামে— ১টি করে। পরিচ্ছন্ন সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে ২০০৯-১০ অর্থবছরে কর্মরত মোট জনবল ছিল ৪ হাজার ৮৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ছিল ৭০ দশমিক ১৮ ও ২৯ দশমিক ৮২ এবং ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট কর্মরত ছিল ৫ হাজার ৭৩৮ জন, যার মধ্যে পুরুষ ও মহিলার অনুপাত ছিল ৬৯ দশমিক ৩৪ ও ৩০ দশমিক ৬৬। মাসিক জনপ্রতি বেতন ছিল ওই দুই অর্থবছরে যথাক্রমে ৪ হাজার ১৫০ টাকা এবং ৪ হাজার ৩৬৫ টাকা। স্থায়ী সম্পদের পরিমাণ ছিল ৬৮ মিলিয়ন টাকা এবং ৭৫ মিলিয়ন টাকা। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত শ্রমিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি, যা দুই অর্থবছরে ৫৮ দশমিক ৯১ এবং ৫৮ দশমিক ৪৩ শতাংশ।
