গত দুই মাসে ভোলায় ২৪২টি নৌ ডাকাতি

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২১:৩২
গত দুই মাসে (মে-জুন) ভোলার মেঘনা নদী ও সাগর মোহনায় ২৪২ টি নৌ ডাকাতি সংঘটিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ডাকাতির কথা অনেক সময় জেলেরা গোপন রাখে। মোটা দাগের টাকা মুক্তিপণ দিয়ে নৌকা ও অপহূত জেলেদের ফিরিয়ে আনতে হয়। আবার নদীতে মত্স্য শিকার নিরাপদ করতে তাদের টাকা দিয়ে কুপন সংগ্রহ করতে হয়। ইতিমধ্যে নৌ ডাকাতি রোধে জেলেরা মিটিং-মিছিল-মানববন্ধন করেছে প্রচুর, কিন্তু ফলোদয় হয়নি কিছু। জেলে, মত্স্য ব্যবসায়ী ও নৌকার মালিকদের দেয়া তথ্যানুযায়ী জানা গেছে যে, গত দুই মাসে দৌলত খান, বোরহানুদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় মোট ২৪২টি নৌ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। শুধু নৌকার মালামাল নিয়েই তারা ক্ষান্ত হয়নি, এই সঙ্গে তারা অপহরণ করে দুই শতাধিক জেলেকে। একজন জেলেসহ একটি নৌকা উদ্ধার করতে জেলেদের টাকা গুনতে হয়েছে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ পর্যন্ত। মনপুরা উপজেলার চর পাতিলার নৌকা মালিক নূরে আলম, বোরহানুদ্দিন উপজেলার মৃজা কালু ঘাটের নৌকা মালিক কবির মিয়া, দৌলত খান উপজেলার ট্রাক মালিক আবু বকর ছিদ্দিক মনপুরার দক্ষিণ সাকুচিয়া মাছ ঘাটের নৌকা মালিক আবদুল রাজ্জাক ও মনপুরা রামনেওয়াজ মাছ ঘাটের আড়ত্দার শাহাবুদ্দিন জানায়, দস্যু-তষ্করদের নিকট থেকে লুট করে নেয়া নৌকা ও মালামালসহ জেলেদের ছাড়িয়ে আনতেই যে কেবল টাকা লাগে তাই নয়, এদের মোটা টাকা দিয়ে নদীতে মাছ ধরার ছাড়পত্র কিংবা টোকেন নিতে হয়। ভোলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানায়, ডাকাত দল মেঘনা ও সাগর মোহনা থেকে জেলেদের সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে চলে যায় নোয়াখালী চট্টগ্রাম ও লক্ষ্মীপুরের দিকে। আইনী জটিলতার কারণে সীমানা অতিক্রম করা যায় না। দস্যু দমনে প্রয়োজন উল্লেখিত জেলা তিনটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর যৌথ অভিযান। এজন্য চাই মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন। তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন নদীতে জেলেদের মাছ ধরা নিরাপদ করতে চেষ্টার ত্রুটি করছে না।