ফুলবাড়ীয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ফরিদের পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬২ ফুট দৈর্ঘ্য ২১ ফুট প্রস্থ একটি ভবন ১৯৯৩-৯৪ অর্থবছরে নির্মাণ করে এলজিইডি। নির্মাণের ৬ মাসের মাথায় ভবনে দেখা দেয় ফাটল। বর্তমানে ভবনের পশ্চিমের পাশ দেবে গেছে। পুরো দেয়ালে দেখা দিয়েছে ফাটল। রাত-দিন ইট সুরকি পড়ছে ঝর ঝর করে। রানা প্লাজা ধসের পর কর্তৃপক্ষ বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে। বিদ্যালয়ে রয়েছে ৪ জন শিক্ষক ২ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী। একমাত্র ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর এখন প্রতিদিন ক্লাস চলে খোলা আকাশের নিচে।
ভবন নির্মাণের সময়কার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা আফরোজা খাতুন জানান, ৬ মাসের মাথায় ভবনে ফাটল দেখা দেয়ায় ভবনটি বুঝে নিতে তিনি স্বাক্ষর দেননি। অনিয়ম দুর্নীতির মাধ্যমে নির্মাণ করা এই বিদ্যালয় ভবনে এখন ফাটল দেখা দিয়েছে। এক বছর আগে ভবনের পশ্চিম পাশ দেবে গেছে। বৃষ্টি হলে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে ভিতরে। রাত-দিন খসে পড়ছে ভবনের ইট-সুরকি। এতদিন এ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোনমতে ৪ জন শিক্ষক ২ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী নিয়ে কাজ চালালেও এখন আর ক্লাস করা যায় না। পরিত্যক্ত ঘোষণা করার পর ক্লাস করার মত নতুন কোন ব্যবস্থা না থাকায় এখন ছাত্র/ছাত্রীরা খোলা আকাশের নিচে ক্লাস করছে। অতিরিক্ত গরম ও বৃষ্টিতে ক্লাস করতে না পেরে বিদ্যালয়ের ছাত্র/ছাত্রী ঝরে পড়ছে।
এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু ইউসুফ জানান, ৫ বছর আগে ১৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ভবনটি সংস্কার করা হয়েছিল। কিন্তু ভবনের প্লাস্টার এত নিম্নমানের যে, কিছুদিন পর আবার প্লাস্টার খসে পড়তে থাকে। ভবনটি ভেঙ্গে তার স্থলে নতুন ভবন নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন নিবেদন করা হয়েছে। ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান মনির জানান, এ ভবন নিয়ে উপজেলা পরিষদের মাসিক উন্নয়ন ও সমন্বয় সভায় বলেছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।
