চিকিত্সাবিজ্ঞানের গুরুত্বপূর্ণ একটি শাখা হলো ফিজিওথেরাপি। উন্নত বিশ্বে এর চাহিদা আকাশছোঁয়া। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাংলাদেশে এই ফিজিওথেরাপি শিক্ষাব্যবস্থা নানা সমস্যায় জর্জরিত। প্রথমেই বলা যাক কোর্সটির নামের কথা। স্নাতক পর্যায়ে ফিজিওথেরাপি বিষয়ক কোর্সটির নাম Bsc. in Physiotherapy (professional)। এখন BSC হলো স্নাতক (সম্মান) অন্যদিকে Physiotherapy একটি প্রফেশনাল কোর্স। সুতরাং একটি কোর্স একইসঙ্গে Honours এবং Professional হয় কী করে তা বোধগম্য নয়। আমার জানামতে এবং ইন্টারনেট থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বাংলাদেশেই একমাত্র এটি BSC in Physiotherapy। অথচ অন্য যে কোনো রাষ্ট্রে এটি Bachelor in Physiotherapy (BPT) নামে সমাদৃত। ফলে বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের নাম নিয়ে বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। অতঃপর বলা যাক সরকারি প্রতিষ্ঠানের কথা। একটা আলাদা কলেজ অব ফিজিওথেরাপির প্রয়োজনীয়তা ডেন্টাল কলেজের মতোই অপরিহার্য। কেননা একটি আলাদা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য একটি স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান প্রয়োজন যা হবে ঐ শিক্ষাব্যবস্থার মূল কেন্দ্র। অথচ বাংলাদেশে এ ধরনের কোনো সরকারি কলেজ নেই। আমাদের পাশের দেশ ভারতে এ ধরনের ফিজিওথেরাপি কলেজের ছড়াছড়ি। অবশ্য একটি আশার আলো জ্বলেছিল যখন সরকার ফিজিওথেরাপি কলেজের জন্য মহাখালিতে জমি অধিগ্রহণ করে। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। সেই জমিতে আজ বস্তির মানুষের কোলাহল শোনা যায়।
এদিকে সরকার জাতীয় পঙ্গু হাসপাতাল ও ইন্সটিটিউট-এ বিএসসি ইন ফিজিওথেরাপি কোর্সে শিক্ষার্থী ভর্তি করাচ্ছে। সেখানকার চিত্র অত্যন্ত করুণ— শিক্ষার্থীদের দুর্দশা যেন জলোচ্ছ্বাসের মতো বাঁধভাঙা। নেই পর্যাপ্ত শ্রেণিকক্ষ, আবাসিক হল তো দূরের কথা। একটা টয়লেট পর্যন্ত নেই তাদের জন্য। সবচেয়ে আশ্বর্যের বিষয়, এখানে কোনো স্থায়ী শিক্ষক নেই! এখানকার প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ৪টি বিষয় পড়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে, ১টি পড়ে মানসিক স্বাস্থ্য ইন্সটিটিউটে আর মাত্র ৩টি পড়ে পঙ্গু হাসপাতালে। যেখানে অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ ৫টি বিষয় অন্য প্রতিষ্ঠানে গিয়ে পড়তে হয় সেখানে মাত্র ৩টি বিষয়ের জন্য পঙ্গু হাসপাতালে এ কোর্স চালু করার যৌক্তিকতা কী কে জানে। আর পেশাগত ক্ষেত্রে তাদের অর্থাত্ ফিজিওদের দুর্দশার কথা বলা আজ নিরর্থক। কারণ শিক্ষাব্যবস্থা যেখানে ভঙ্গর সেখানে সেবাক্ষেত্রে ভঙ্গুর না হয়ে উপায় কী। উচ্চমার্গীয় ব্যক্তিবর্গ যে কোনো সমস্যার জন্য উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাতে বলেন। মনে প্রশ্ন জাগে, ফিজিওথেরাপি শিক্ষাব্যবস্থার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ উন্নত বিশ্বের দিকে তাকাবেন তো?
ঢাকা
