আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে জিএসপি স্থগিত হয়েছে

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২৩:২০
আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও প্রতিযোগী দেশের ষড়যন্ত্রের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জিএসপি (অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য সুবিধা) স্থগিত করা হয়েছে বলে মনে করেন বিজিএমইএ সভাপতি আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, জিএসপি বহাল রাখার জন্য যেসব শর্ত ছিল, তার মধ্যে শ্রমিক অধিকার রক্ষার ইস্যুটি ছিল তালিকার শেষদিকে। অথচ অন্যান্য ইস্যুর (যুক্তরাষ্ট্রের দাবিকৃত) অগ্রগতি না দেখে কেবল শ্রমিক অধিকারের ইস্যু দেখিয়ে জিএসপি স্থগিত করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, প্রতিবেশী দেশসহ সবাই আমাদের তৈরি পোশাক খাতের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত। এ খাতকে ভাল থাকতে দেয়া হবে না। এ খাত ভাল না থাকলে আমরা পরাধীন হব। তিনি বলেন, চক্রান্ত না হলে কেন টিফিন খেয়ে, পানি খেয়ে বা ভূত দেখে শ্রমিকরা অসুস্থ হবে? আগে তো এমন হয়নি। অথচ পরীক্ষায় উল্লেখিত খাবার বা পানিতে কোন সমস্যা পাওয়া যায়নি। বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক খাত চলে গেলে তাদের লাভ। সামপ্রতিক ঘটনাকে ইস্যু করে তারা বাজারের দখল নিতে চাচ্ছে। ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া দ্রুত তাদের অবকাঠামো উন্নয়ন করছে। তারা অপেক্ষায় আছে। আর আমরা যদি ধরে নেই বাজার যাবে না, সেটি হবে ভুল। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জিএসপি সুবিধা প্রত্যাহারের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, পোশাক খাত সেখানে জিএসপি সুবিধা পায় না। পণ্য রপ্তানির জন্য ৭৫ কোটি ডলার শুল্ক দিতে হয়। শ্রমিকদের উন্নতি চাইলে তারা আমাদের শুল্কমুক্ত সুবিধা দিতে পারত। যেটা ইউরোপ দেয়। কিন্তু তারা সেটি না করে মাত্র দুই কোটি ৬০ লাখ ডলারের রপ্তানি পণ্যের উপর থেকে বিদ্যমান সুবিধা স্থগিত করেছে। ইউরোপ জিএসপি বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে হাঁটবে না জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, ইইউ আশ্বস্ত করেছে যে, তারা জিএসপি বাতিল করবে না। ওয়াশিংটন পোস্টে বেগম খালেদা জিয়ার নিবন্ধের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি পোশাক খাত নিয়ে বিদেশে কটূক্তি বা রাজনীতি না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটা ঠিক হবে না। সব ক্রেতা বিদেশি। একটা সময় আসবে যখন তারা বলবে বাংলাদেশ থেকে পোশাক কিনব না। তখন এ দায় আমাদের সবাইকেই বহন করতে হবে। শ্রম আইনের সংশোধনীতে ‘কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করতে শ্রমিকরা মালিকপক্ষকে জানাতে বাধ্য নয়’ - এমন একটি ধারা সংযোজিত হতে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কঠিন সিদ্ধান্ত, মানা যায় না। আপনার কারখানায় ট্রেড ইউনিয়ন করা হবে অথচ আপনি জানবেন না! ট্রেড ইউনিয়নকে স্বাগত জানাই। কিন্তু তা হতে হবে আইনি কাঠামোর মধ্যে। রেশমার উদ্ধার কার্যক্রমকে প্রশ্নবোধক আখ্যা দিয়ে ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি মিররের প্রতিবেদনের বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, আমি মনে করি না এটি সাজানো। কারণ রেশমা উদ্ধারের সময় হাজার হাজার মানুষও ছিল। বিটিভিসহ একটি দুটি টিভি থাকলে হয়তো একথা বলার একটা যুক্তি থাকতো। কিন্তু এতগুলো মিডিয়ার সামনে একটি সাজানো ঘটনা ঘটতে পারে, আমি তা বিশ্বাস করি না। অনুষ্ঠানে ডিআরইউ সভাপতি শাহেদ চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস হোসেনসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।