নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে পৃষ্ঠপোষকতা চাই

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২৩:২০
দেশে নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণাগার (ইনকিউবেটর) স্থাপনের আহ্বান জানালেন জাতীয় উদ্যোক্তা সম্মেলনে বক্তারা। তারা বলেন, দেশের নতুন উদ্যোক্তাদের বেশিরভাগই তরুণ। তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণ, মূলধনের ব্যবস্থা এবং উত্পাদিত পণ্য বিপণনের জন্য সরকারের পর্যাপ্ত সহযোগিতা প্রয়োজন। আর এর মাধ্যমে নতুন উদ্যোক্তারা দেশের জাতীয় আয়ে অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। দেশের তরুণ সম্ভাবনাময় ও উদ্ভাবনী শক্তির অধিকারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে গতকাল শুক্রবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শুরু হয়েছে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল এন্ট্রাপ্রেনার সামিট (নেস) বা জাতীয় উদ্যোক্তা সম্মেলন। সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা টিম ইঞ্জিন লিমিটেডের আয়োজনে নেস এর উদ্বোধন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত। সম্মেলনে সারাদেশ থেকে যোগ দিতে আসা কয়েকশ’ উদ্যোক্তার বেশিরভাগই বয়সে তরুণ। সম্ভাবনাময় এবং উদ্যমী এইসব উদ্যোক্তাদের কেউ কেউ সদ্য পা রেখেছেন ব্যবসায় অঙ্গনে। কেউবা ব্যতিক্রমি, সৃজনশীল একইসাথে ব্যাপক সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক পরিকল্পনা মাথায় নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন। ‘রাইজ ফর জিডিপি গ্রোথ’ স্লোগান সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের (আইসিটি) সচিব নজরুল ইসলাম খান, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (ডিসিসিআই) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট নেসার মাকসুদ খান, অ্যাসোসিয়েশান অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবির। অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশে ইতিমধ্যে যেসব উদ্যোক্তা রয়েছেন তারা বেশিরভাগই দ্বিতীয় প্রজন্মের উদ্যোক্তা। এখন সময় এসেছে উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য প্রতিষ্ঠান স্থাপন করার। কারণ দেশব্যাপী ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা উদ্যোক্তাদের হাতেই দেশের ভবিষ্যত্। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকেও উদ্যোগ নেয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন অর্থমন্ত্রী। নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য দরকার জমি, অর্থ ও শ্রমশক্তি। এই তিনের সমন্বয় করবেন উদ্যোক্তা। অর্থমন্ত্রী গ্রামীণ ব্যাংকের প্রশংসা করে বলেন, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে গ্রামীণ ব্যাংক বিপ্লব ঘটিয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংক ক্ষুদ্র ঋণ দিয়ে কাজের ক্ষেত্র তৈরি করছে এবং উত্পাদিত পণ্য বিপণনেরও ব্যবস্থা করেছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের চেয়ে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। ‘আমাদের লম্ফ দিলে হবে না, উল্লম্ফন দিতে হবে’। ডিসিসিআই সহ-সভাপতি নেসার মাকসুদ খান বলেন, উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিষয়টি বাংলাদেশে নতুন। এখন পরিবেশ দাঁড়িয়েছে এই কাজটি করার। উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা ও প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তহবিল সংকট ও উচ্চ সুদহার দূর করার পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য একটি তহবিল গঠনের জন্য অর্থমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলাম খান বলেন, নতুন বিষয়ে দ্রুত এগোনোর পরিকল্পনা নিয়ে আসতে হবে উদ্যোক্তাকে। ব্যবসা হতে হবে গতিশীল। উদ্যোক্তাদের ভাবনাতেও নতুন কিছু করার আগ্রহ থাকতে হবে। নতুন উদ্যোগে কেউ ব্যর্থ হলে তার অভিজ্ঞতা নিয়ে আরো কাউকে উদ্যোগী হয়ে এগিয়ে যেতে হবে। অ্যামটব মহাসচিব টিআইএম নূরুল কবির বলেন, বাংলাদেশের উদ্যোক্তাদের অর্থের সংকট বড় বাধা। ব্যাংক ঋণ পাওয়া খুব কঠিন। এরপরও কেউ কোন পণ্য উত্পাদন করলে তা বাজারজাত করা আরেকটি সমস্যা। এসব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। তিনি উদ্যোক্তা সৃষ্টির জন্য সরকারি উদ্যোগে ইনকিউবেটর গড়ে তোলার দাবি জানান। অর্থ মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংস্থা টিম ইঞ্জিন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামিরা জুবেরী হিমিকা। তিনি বলেন, উদ্যোক্তাদের পরিপূর্ণভাবে নানা উদ্যোগ ও প্রকল্প প্রদর্শন এবং উন্নতি সাধনের পথনির্দেশনা দিতেই এই আয়োজন। সম্মেলনে প্রথমবারের মতো ‘হাট বাজার’ নামক প্রদর্শনীতে উদ্যোক্তাদের নতুন পণ্য বা সেবা প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকবে। থাকছে ‘এন্ট্রাপ্রেনার্স ক্লিনিক’ নামে একটি বিশেষ আয়োজন। যেখানে উদ্যোক্তারা তাদের কাঙ্ক্ষিত বিশেষজ্ঞ (আইন, তথ্যপ্রযুক্তি, বিপণন, পুঁজি সংগ্রহ ইত্যাদি) প্যানেলের সঙ্গে মুখোমুখি পরামর্শ সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশ্বের ১২৮টি দেশে অনলাইনে সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। সম্মেলন আজ শনিবার শেষ হবে।