মুরসিপন্থিদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৩, ২৩:৩১
মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতা ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছে তার সমর্থকরা। তারা সশস্ত্র আন্দোলনে প্রতিশোধ নেয়ারও হুমকি দিয়েছে। রাজধানী কায়রোসহ বিভিন্ন শহরে গতকাল শুক্রবার বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে সদ্য ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের সমর্থকরা। এসময় কয়েকটি স্থানে নিরাপত্তা বাহিনী ও মুরসি বিরোধীদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। মুরসিপন্থিরা দিনটিকে প্রত্যাখ্যান দিবস বলে ঘোষণা দেয়। গতকাল বিক্ষোভকারীরা প্রেসিডেন্ট গার্ডের ব্যারাকের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে সেনাবাহিনী গুলি চালায়। গুলিতে কমপক্ষে তিনজন বিক্ষোভকারী নিহত ও অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। তবে সেনাবাহিনী সরাসরি গুলি করার কথা অস্বীকার করে। মুরসি সমর্থকরাও গুলি করে। মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড নেতারা মুরসিকে ক্ষমতা ফিরিয়ে না দেয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চালিয়ে যাবার ঘোষণা দিয়েছেন। দলটির শীর্ষ নেতা মোহাম্মদ বাদাই বলেছেন, মুরসিকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া অবৈধ। গতকাল অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান আদলি মাহমুদ মনসুর ডিক্রি জারি করে পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ শুরা কাউন্সিল বিলুপ্ত করেছেন। মুসলিম ব্রাদারহুডের তিনশ’ নেতার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। মুরসির বিরুদ্ধে বিচার বিভাগ অবমাননা ও সহিংসতা উস্কে দেয়ার অভিযোগ তদন্ত করা হচ্ছে। খবর বিবিসি, সিএনএন, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের। প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুড গতকাল শান্তিপূর্ণ সমাবেশের ডাক দেয়। সেনাবাহিনীও শান্তিপূর্ণ সমাবেশে সহযোগিতার কথা বলে। সহিংসতার আশঙ্কায় কায়রোর গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। ট্যাংকবহর নিয়ে রাস্তায় টহল দিতে দেখা যায় সেনাবাহিনীকে। সেনাবাহিনী বলেছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে না। যদিও মুরসিসহ মুসলিম ব্রাদারহুডের অনেক ঊর্ধ্বতন সদস্যকেই ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে কমপক্ষে তিনশ’ জনের বিরুদ্ধে। মুসলিম ব্রাদারহুড গতকাল প্রত্যাখ্যান দিবস পালন করে। কায়রোর বিভিন্ন এলাকার মসজিদগুলোয় জুমার নামাজ উপলক্ষে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়। মুরসির ক্ষমতার মেয়াদ আকস্মিকভাবে শেষ করে দেয়ার যে ঘোষণা গত বুধবার সেনাবাহিনী দিয়েছে তা মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে এটাকে অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা দিয়েছে ইসলামপন্থি এই দলটি। মুসলিম ব্রাদারহুডের মুখপাত্র গেহাদ আল হাদ্দাদ নতুন প্রশাসনের সঙ্গে সহযোগিতা করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। কেউ কেউ সেনা প্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল আল সিসিকে খতম করার দাবিও জানাচ্ছেন। সিনাইয়ের নিরাপত্তা চৌকির ওপর হামলার খবর পাওয়া গেছে। জেনারেল সিসি-ই মুরসির প্রেসিডেন্ট মেয়াদের অবসানের ঘোষণা দিয়েছিলেন। এদিকে সেনাবাহিনী নির্বাচিত প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতাচ্যুত করায় মিসরকে সাসপেন্ড করেছে আফ্রিকান ইউনিয়ন। এছাড়া মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতাদের অবাধে গ্রেফতারে গতকাল উদ্বেগ প্রকাশ করে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ বলেছে, নেতাদের গ্রেফতারের কারণ সেনাবাহিনীর পরিষ্কার করা উচিত।