সারাদেশে সিএনজি স্টেশনে ডাকা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার দুপুরে কাওরান বাজারের পেট্রোবাংলা দপ্তরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-ইলাহীর সঙ্গে সিএনজি রিফুয়েলিং এন্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স এসোসিয়েশনের বৈঠকশেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে অন্যদের মধ্যে জ্বালানি সচিব মোজাম্মেল হক খান, পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান হোসেন মনসুর, এসোসিয়েশনের সভাপতি জাকির হোসেন নয়নসহ এসোসিয়েশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকশেষে উপদেষ্টা জানান, এসোসিয়েশনের দাবি পূরণের জন্য একটি কমিটি করা হবে। এই কমিটি তাদের দাবিগুলো যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করবে। সুপারিশের ভিত্তিতে দাবি পূরণ করা হবে। জাকির হোসেন নয়ন জানান, এসোসিয়েশনের কিছু দাবি পূরণ হয়েছে। অন্য দাবিগুলো পূরণের আশ্বাস দিয়েছে সরকার। এই পরিপ্রেক্ষিতে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। সিলেটে রিফুয়েলিং স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার নামে ঘুষ দাবির অভিযোগে বৃহস্পতিবার সিলেটের সব সিএনজি ফিলিং স্টেশনে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু হয়। পরে রাতে এর সঙ্গে একাত্মতা জানিয়ে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের ঘোষণা দেয় সিএনজি এসোসিয়েশন। গতকাল শুক্রবার ভোর ৬টা থেকে দেশের সব সিএনজি স্টেশনে ধর্মঘট শুরু হয়।
ধর্মঘটে দুর্ভোগ
ধর্মঘটের কারণে গতকাল সকাল ৬টা থেকে সিএনজি ফিলিং স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকে। দুর্ভোগে পড়েন গ্যাস নিতে আসা গাড়ির চালকেরা। সবচেয়ে অসুবিধায় পড়ে সিএনজি চালিত টেক্সিক্যাব ও অটোরিক্সার চালকেরা। অনেকেই রাতে ধর্মঘটের খবর পাননি, সকালে গ্যাস নিতে বিফল হয়ে ফিরে যেতে হয়। সকাল নয়টার দিকে মগবাজারের ‘অনুদীপ সিএনজি’ স্টেশনে গ্যাস নিতে আসেন মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আকরাম হোসেন। বললেনঃ ধর্মঘট সম্পর্কে জানা ছিল না। মোহাম্মদপুর থেকে মগবাজার পর্যন্ত ৪/৫টি স্টেশন ঘুরেও সিএনজি পাইনি। গতকাল সকালে রাজধানীর সায়েদাবাদ, কমলাপুর, মালিবাগ, মগবাজার, মহাখালী, বাড্ডা, রামপুরার সিএনজি স্টেশনগুলো ঘুরে দেখা যায় গ্যাস বিক্রি বন্ধ। দুপুরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের খবর পেয়ে স্টেশনগুলোতে গ্যাস নিতে ট্যাক্সি, অটোরিক্সা, প্রাইভেট কার ও গাড়ির লাইন পড়ে যায়।
এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সিলেটে সিএনজি স্টেশনে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হাইকে প্রত্যাহার করায় তারা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বুধবার বিকালে সিলেটের মেহেন্দিবাগের ‘বেঙ্গল গ্যাসোলিন ফিলিং স্টেশনে’ অভিযান পরিচালনা করেন ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল হাই। তিনি হয়রানি করেছেন, এই অভিযোগেই ধর্মঘট আহ্বান করা হয়।
সিলেট অফিস জানায়, বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটে ও শুক্রবার সকালে ঢাকায় বৈঠকের পর সারা দেশে সিএনজি ফিলিং স্টেশন ধর্মঘট প্রত্যাহার হয়েছে। গতকাল বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার হলে সিলেটের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহন হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এদিকে একই সাথে সেই ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল হাইকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ধর্মঘট প্রত্যাহার হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
