আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ পার্লামেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ এমপি বলেছেন, বর্তমান মহাজোট সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রায় ৬ হাজার নির্বাচনের মতো আজ শনিবার অনুষ্ঠিতব্য গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনও অবাধ, সুষ্ঠু ও সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে। এ নির্বাচন নিয়ে সরকার এমন কিছু করবে না যাতে অতীতের সব অর্জন কলুষিত হয়। বিএনপি জানে নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তাদের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি ম্লান হয়ে যাবে, তাই তারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে। অতীতের ন্যায় সেনাবাহিনীকেও বিতর্কিত করতে তারা সেনা মোতায়েনের দাবি করছে। যারা সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করতে চায়, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেয় জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করবে বলে তিনি জানান।
গতকাল শুক্রবার বিকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে মহাজোটের পক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তোফায়েল আহমেদ এসব কথা বলেন। বিএনপিকে সুবিধাবাদী রাজনৈতিক দল হিসাবে আখ্যায়িত করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিরোধী দল যত ষড়যন্ত্র ও আন্দোলন করুক না কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর দেশে ফিরে আসবে না। সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতাসীন বর্তমান দলীয় সরকারের অধীনেই দশম জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
‘হারলেও লাভ, জিতলেও লাভ’ মর্মে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের সমালোচনা করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, গোপালগঞ্জের পর গাজীপুর আওয়ামী লীগের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাঁটি। তাছাড়া আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লাহ খান সততা, ন্যায় ও নিষ্ঠার জন্য প্রশংসিত। তাই সদ্য সমাপ্ত চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের সঙ্গে গাজীপুরের হিসাব-নিকাশ মিলবে না। এ নির্বাচন নিয়ে বিএনপির আষাঢ়ে গল্পের মূল কারণ হলো, হেরে তারা প্রমাণ দেখাতে চায় বর্তমান সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব না।
সিটি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করা হচ্ছে উল্লেখ করে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এসব ধর্ম ব্যবসায়ী একাত্তরেও বলেছিল, নারী ধর্ষণ জায়েজ। তিনি বলেন, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ১৮ দল সমর্থিত প্রার্থী এম এ মান্নানকে ১৯৯১ সালে হাজীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কার করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, আমি যদি হাজীদের টাকা আত্মসাত্ করে থাকি তাহলে আমি যেন কোনদিন কোন নির্বাচনে বিজয়ী না হই। সেই থেকে তিনি একাধিক নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। কোনটিতেই তিনি বিজয়ী হতে পারেননি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক বদিউজ্জামান ভুঁইয়া ডাবলু প্রমুখ।
