কী করে এলো

এ কালের শাহজাহান!

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৩, ১৯:৩৬
গানে-কবিতায় কিংবা কথাচ্ছলে কতজনই তো তার প্রেমিকার জন্য প্রেমের প্রতীক তাজমহল গড়ে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু আদতে এই কথাচ্ছলে বলা কথাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার সাহস ক’জনাই বা রাখেন। তাছাড়া একটা সময়ে এসে যখন বয়সের নাটাইয়ে টান লাগে তখন ফিকে হয়ে যায় তারুণ্যের আবেগ ও ভালোবাসার বশে বলা কথামালাও। তবে প্রচলিত এই ধারণার উজ্জ্বল ব্যতিক্রম হয়েই এবার গোটা দুনিয়ার অসংখ্য সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন ভারতের ৭৭ বছর বয়সী ফয়জুল হাসান। স্ত্রীর মৃত্যুর আগে তাকে দেওয়া কথা রাখতে এই প্রবীণ ব্যক্তি আক্ষরিক অর্থেই তার সর্বস্ব উজার করে নির্মাণ করছেন নিজের এক তাজমহল। ঘটনার বিবরণে যাওয়া যায়, দীর্ঘ ও সুখী এক দাম্পত্য জীবন কাটালেও ফয়জুল হাসান ও তার স্ত্রী তাজাম্মুলি বেগমের কোনো সন্তান-সন্ততি ছিল না। তাই ২০১১ সালে মারা যাওয়ার আগে তাজাম্মুলি বেগম একদিন বেশ আফসোস নিয়েই বলেছিলেন যে, ‘আমাদের যেহেতু কোনো সন্তান নেই, তাই আমাদের মৃত্যুর পর আমাদের কেউ আর মনেও করবে না।’ স্ত্রী’র এই আফসোস যেন বুকে শেল হয়ে বিঁধেছিল ফয়জুলের। তাই সেদিনই মনে মনে শপথ করেছিলেন, স্ত্রীর নামে এমন এক সমাধি গড়বেন যেটি সারাবিশ্বের মানুষ মনে রাখবে। সেই ভাবনা থেকেই গেল বছর উত্তর প্রদেশে নিজের জমিতে নতুন আরেক তাজমহলের ভিত গড়েন একালের এই শাহজাহান। একে একে ৫০ ফুট বাই ৫০ ফুট আকারের এই তাজমহল সদৃশ স্থাপনাটি তৈরি করতে পেনশনের টাকা থেকে শুরু করে পৈতৃক জমি অবদি সবকিছুই বিকিয়ে দেন একদা পোস্টমাস্টারের চাকরি করা ফয়জুল। সেই সাথে চলতে থাকে উদয়াস্ত পরিশ্রম। তবে এতোকিছুর পরও এখনও অনেকটাই অসম্পূর্ণ ফয়জুল-তাজাম্মুলির ভালোবাসার প্রতীক এই তাজমহল। যদিও ফয়জুল বিশ্বাস করেন, সীমাবদ্ধতা যত তীব্রই হোক না কেন তার কাছে একদিন সত্য ভালোবাসার জয় হবেই হবে।