কৃষকের ঘরের আলু শেষ হওয়ার পথে। কোল্ড স্টোরে রাখা আলু বাজারে ছাড়া শুরুর পর দাম চড়ে গেছে। কোল্ডস্টোরে রাখা আলু ব্যবসায়ীদের কথা তারা সংকটে আছেন। প্রতি বস্তা আলুতে আড়াইশ’ টাকা থেকে ৪শ’ পর্যন্ত টাকা লোকসান হচ্ছে। এ দামে আলু বিক্রি করে অনেকে পুঁজি হারাবেন।
ঢাকা খামার বাড়ির কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং এর মনিটরিং বিভাগের উপ পরিচালক মোঃ রফিকুল হাসান বলেন, এ বছর (২০১২-২০১৩) দেশে আলু চাষ ৪ লাখ ৪৪ হাজারে হেক্টরে। আলুর উত্পাদন হয়েছে ৮৬ লাখ ৩ হাজার টন। অধিদপ্তরের অপর এক সুত্রে জানা যায়, চাষ লক্ষ্যমাত্রা ছিল সাড়ে ৪ লাখ হেক্টরে। আর আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৮৫ লাভ ৯৫ হাজার টন। ৬ হাজার হেক্টরে আলু চাষ কম হয়েছে। কিন্ত ফলন ভাল হওয়ায় আলুর উত্পাদন লক্ষ্যমাত্রা ছেড়ে গেছে।
দেশে বর্তমানে ৪শ’ ৫টি কোল্ডস্টোর আছে। এর মধ্যে ২৩টি বন্ধ আছে বলে কোল্ড স্টোর এ্যাসোশিয়েসনের সম্পাদক মোজাম্মেল হক চৌধুরি জানান। কোল্ডস্টোর গুলোতে আলুর ধারন ক্ষমতা ৪২ লাখ টন। এ বছর প্রতি বস্তা আলু স্টোরে রাখার জন্য ৩শ’ ৬০ টাকা ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এ ভাড়াতে ৬ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত স্টোরে আলু রাখা যাবে।
আলু উঠার পরই চাষিরা আলু বিক্রি শুরু করে। ৪৪ লাখ টন আলু চাষিরা বিভিন্ন ভাবে বাড়িতে মজুত করে রাখে। এ আলু তারা আড়তদারের মাধ্যমে আলু ব্যবসায়ী ও পাইকারদের কাছে বিক্রি করে আসছিল। এখন পর্যন্ত চাষির মজুত আলুতে চলছিল। সবে কোল্ডস্টোরের মজুত আলু বাজারে ছাড়া শুরু হয়েছে। মুন্সিগঞ্জ জেলার বেতকা বাজারের আলু ব্যবসায়ী আব্দুল আলি বলেন, কার্ডিনাল আলু উঠার পর প্রতি মন (৪০ কেজি) ৩শ’ ৭০ টাকা থেকে ৩শ’ ৮০ টাকা দরে কেনাবেচা হয়। এ আলু প্রতি বস্তা (৮৪ কেজি) সাড়ে ৮শ’ টাকা খেকে ৯শ’ টাকা পর্যন্ত দরে কিনে ব্যবসায়ী, চাষি ও আড়তদারগন কোল্ডস্টোরে রেখেছেন। আলু কেনার পর প্রতি বস্তা কোল্ডস্টোরে পৌঁছাতে দেড়শ’ টাকা খরচ হয়। স্টোর ভাড়া ৩শ’ ৬০ টাকা। মোট ব্যয় ১৩শ’ ৬০ টাকা থেকে ১৪শ’ ১০ টাকা। বর্তমানে প্রতি বস্তা আলু এক হাজার টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। তার হিসাব মতে প্রতি বস্তা আলুতে ৩৬০ টাকা ৪১০ টাকা পর্যন্ত লোকসান হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। এর সাথে ব্যাংক ঋণের সুদ যোগ করলে লোকসানের পরিমান আরো বেড়ে যাবে।
জয়পুরহাট জেলার কালাই মোকামের আলু ব্যবসায়ী মাহবুবুর রহমান বাচ্চু জনান, প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে ২শ’ ৮০ টাকা থেকে ৩শ’ টাকা।
একই ভাবে বাজশাহী, ঝিনাইদহের ব্যবসায়ীরা আলু কোল্ডস্টোরে রেখে বিপাকে রয়েছেন। এদিকে সামনে ৪ মাস সময় আছে। নভেম্বরে নতুন আলু উঠতে শুরু করবে। নতুন আলু উঠার পর দাম বেশি থাকে। দাম কমে গেলে ক্রেতারা আর পুরানো আলু কিনে না। আমাদের দেশে আলুর বার্ষিক চাহিদা কত তার তথ্য পাওয়া যায়নি। আলু আমাদের দেশের মানুষ সবজি হিসাবে খেয়ে থাকে বলে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান। কিছু পরিমান আলু শিল্পে খাদ্য সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহার হয়ে থাকে বলে তিনি আরো জানান।
