তৈরি পোশাক শিল্প খাতে সরকারি বা বেসরকারি স্বাস্থ্য সেবা দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই বলে জানিয়েছেন পপুলেশন সার্ভিসেস এন্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিএসটিসি)। এই খাতে কর্মরত অধিকাংশ শ্রমিক নারী হলেও যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য সেবা সম্পর্কে তারা একেবারেই অজ্ঞ। যার কারণে নারী শ্রমিকরা সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে অসুস্থ হয়ে, দ্রুত কর্মশক্তি হারিয়ে ফেলছেন।
শনিবার স্থানীয় একটি হোটেলে পিএসটিসি আয়োজিত ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মরত শ্রমিকদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার এবং আমাদের করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় প্রতিনিধি কর্মশালায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বক্তারা বলেন, সরকার, বিজিএমইএ, বিভিন্ন পেশাজীবী ও বেসরকারি সংস্থাসহ সকলের সম্বলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে পোশাক শ্রমিকদের বিশেষতঃ নারী শ্রমিকদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. ইসরাফিল আলম বলেন, শুধু গার্মেন্টস সেক্টরে নয়, সর্বক্ষেত্রেই নারীর যৌন ও প্রজনন বিষয়টি উপেক্ষিত। এ ব্যাপারে বাস্তবসম্মত সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি বলেন, সর্বক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বেড়ে যাচ্ছে কিন্তু নারীদের স্বাস্থ্য সেবার কোঠা এখনও শূন্য হয়ে রয়েছে। তবে সবচেয়ে ঝুঁকিতে আছেন রাসায়নিক কারখানার নারীরা।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিজিএমইএ সাবেক সভাপতি আনোয়ারুল আলম চৌধুরী পারভেজ, শিক্ষা ব্যবস্থায় যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার আহবান জানান।
এডভোকেট ড. তুহিন মালিক বলেন, পল্ট্রি ফার্মে কিংবা মাছের ঘেরে অসুখ দেখা দিলে সেই মাছ ও মুরগিকে ভ্যাকসিন দেয়া হয়। কিন্তু যার মাধ্যমে গার্মেন্টস শিল্প বাঁচিয়ে রাখতে হবে, সেই শ্রমিককে বাঁচাতে আমরা সচেতন নই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কিশোরী বিয়ে অবৈধ হলেও কিশোরী মাতা কিন্তু অবৈধ নয়। আমরা প্রসূতির পুষ্টি নিয়ে কখনো কথা বলি না। নারী শ্রমিক সন্তানসম্ভবা হলে তার চাকরিটা পর্যন্ত থাকে না। সেকারণে চাকরি তথা জীবন বাঁচাতেই যত্রতত্র গর্ভপাত ঘটানো হচ্ছে। আর এর কারণে তারা যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যহানিতে পড়ছে, অথচ সে বিষয়ে আমরা কথা বলি না।
গার্মেন্টস শ্রমিকনেত্রী নাজমা আক্তার বলেন, অসচেতনতার কারণে গার্মেন্টস শ্রমিকরা যৌন ও প্রজনন সংক্রান্ত অসুস্থতায় পড়ে। এজন্য প্রয়োজন সচেতনতা মজুরির পাশাপাশি তিনি শ্রমিকদের বাসস্থান ও পয়ঃনিষ্কাশনের কথা তুলে ধরেন। তিনি আরও বলেন, মাতৃত্বকালীন সরকারি ছুটি ছয় মাস হলেও গার্মেন্টস সেক্টরে তা চার মাস। একই দেশে দুই ধরনের ব্যবস্থা চালু, বড় ধরনের বৈষম্য।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, ড. অভিজিত্ পোদ্দার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন টিএসটিসি’র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব এ এফ এম মোস্তাক। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য অধ্যাপিকা অপু উকিল, সংসদ সদস্য নিলুফার চৌধুরী মনি, সংসদ সদস্য জুনায়েদ আহমেদ পলক, সাংবাদিক আবু সাঈদ খান প্রমুখ।
