মিসরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসির সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে গত শুক্রবারের সংঘর্ষে ৩৬ জন নিহত এবং এক হাজারের বেশি আহত হয়েছে। মোহাম্মদ মুরসিকে প্রেসিডেন্ট হিসাবে পুনর্বহাল এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে শুক্রবার কায়রো এবং অন্যান্য শহরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের দ্বিতীয় শীর্ষ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। খবর বিবিসি, রয়টার্স ও দ্য গার্ডিয়ানের।
কায়রোতে তাহরির স্কোয়ারের কাছে শুক্রবার গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষ চলে। সেখানে মুরসির সমর্থক এবং বিরোধীরা সংঘর্ষের সময় পরস্পরের দিকে পাথর ও বোতল ছুঁড়ে মারে। মিসরে গত কয়েকদিনের নাটকীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এটিই এ পর্যন্ত সবচেয়ে মারাত্মক সহিংসতার ঘটনা। এদিকে মুসলিম ব্রাদারহুডের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সহিংসতায় উস্কানি দেয়ার অভিযোগে ব্রাদারহুডের উপ-প্রধান খাইরাত আল-শাতেরকে কায়রো থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকালও মুসলিম ব্রাদারহুডকে বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়। ব্রাদারহুডের প্রধান মোহাম্মদ বাদাই গত বৃহস্পতিবার গ্রেফতার হয়েছিল বলে খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু শুক্রবার হঠাত্ করে কায়রোতে এক বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত হন এবং বলেন, প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে না আনা পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো। একইসঙ্গে তিনি তাদের শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে অস্ত্র ব্যবহার না করতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহ্বান জানান। এদিকে মুরসি বিরোধীরাও বিক্ষোভ সমাবেশ চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
শুক্রবারের সহিংস ঘটনার নিন্দা জানিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সেনাবাহিনীসহ সব দলের প্রতি সংঘাত বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন স্থানে নারীদের যৌন নির্যাতনেরও নিন্দা জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন এ ধরনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, মিসরবাসীকেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে তারা কীভাবে নিজেদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন। আর এটা করতে হবে নারী-পুরুষ সবার অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে। সেনাবাহিনী তাদের ফেসবুকে জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর একটি অংশ মুরসিকে ক্ষমতায় ফিরিয়ে দিতে চাইছে বলে যে খবর ছড়ানো হয়েছে তার কোনো ভিত্তি নেই। বিরোধীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে গত বুধবার সেনাবাহিনী তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে। সেনারা একটি অজ্ঞাত স্থানে তাকে আটকে রেখেছে। একইসঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন নেতাকে আটক করা হয়েছে।
