অভিনেত্রী মিতা নূরের খুবই ঘনিষ্ঠ একজনের সঙ্গে শাহনূর রহমান রানার বিয়ের কথাবার্তা চলছে। জানা গেছে, মিতা নূরের পরিবারের সদস্যদেরও এই বিয়েতে আপত্তি নেই। এদিকে পুলিশ বলছে, মিতা নূরের আত্মহত্যার ঘটনায় তার পরিবারের সদস্যরা কোন ধরনের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেনি। যার কারণে তদন্তে তেমন অগ্রগতি হচ্ছে না।
মিতা নূরের এক বান্ধবী জানান, যাদের কারণে মিতা নূর আত্মহত্যা করেছেন, তাদের পরিবারই চলে রানার টাকায়।
পুলিশ তদন্ত করতে গিয়ে দেখতে পেয়েছে, শুধু স্বামীর পরকীয়ার কারণেই মিতা নূর আত্মহত্যা করেননি। মিতা নূরেরই খুব ঘনিষ্ঠ একজনের সঙ্গে রানার মেলামেশা ও এই ব্যাপারে তার আপনজনদের দেখেও না দেখার ভান করাটি মানতে পারেনি তিনি।
পুলিশের এক তদন্ত কর্মকর্তা জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা এমন আচরণ করেন যে, মিতা নূর আত্মহত্যা করায় আপদ বিদায় হয়েছে।
মিতা নূরের এক বান্ধবী বলেন, রানা ওই চিত্র নায়িকার সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়ানোর পর পুনরায় মিতার আরেক ঘনিষ্ঠ বান্ধবীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। সর্বশেষ তার খুবই আপনজনের সঙ্গে স্বামীর পরকীয়ায় সে খুবই মর্মাহত হয়েছে। এটিই তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে বলে ওই বান্ধবী জানান।
গতকাল শনিবার গুলশান থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বাসাবো নন্দিপাড়ায় মিতা নূরের বাবার বাসায় যান। মিতার বাবা, বোনসহ পরিবারের অন্য সদস্যদের আত্মহত্যার ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
পুলিশের ওপর এক কর্মকর্তা বলেন, মিতা নূরের সম্পর্কে অনুসন্ধান করতে গিয়ে প্রায় সবাই একই ধরনের কথা বলেছে। এক বাক্যে সবাই তাকে ভদ্র, নম্র ও অসাধারণ একজন মানুষ বলে চিহ্নিত করেছে।
সাংস্কৃতিক জগতের বাইরে মিতা মানবকল্যাণ সোসাইটির সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে অসহায় মানুষের সাহায্য সহযোগিতা করতেন। এই সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজন ইত্তেফাককে জানান, তারা মিতা নূরকে কাছ থেকে দেখেছেন। স্বামীর পরকীয়া প্রেম ও তার নির্যাতনের কারণে অনেক সময় তাকে মনমরা দেখা যেত। কিছু জিজ্ঞেস করলে মিষ্টি হাসি দিয়ে বলতো, কিছু না এমনিই মন খারাপ।
মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের উপ-পুলিশ কমিশনার লুত্ফুল কবির বলেন, মিতা নূরের আত্মহত্যার রহস্য উদঘাটনে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলছে। কিন্তু পরিবারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।
