গত দু’দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে তিস্তানদীর পানি। এছাড়া ধরলার নুনখাওয়া এবং ব্রহ্মপুত্রের ফুলছড়ি পয়েন্টে পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। এসব নদ-নদীর ১৫২ কিলোমিটার অববাহিকা এলাকার চরাঞ্চল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। শুক্রবার রংপুরে ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকাল থেকে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তানদীর পানি বিপদসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে ৫২ দশমিক ৫০ সেন্টিমিটারে প্রবাহিত হচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্ত পশ্চিম ছাতনাই এলাকার ৬৩ কিলোমিটার উজানে ভারতের গজালডোবায় পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে শুক্রবার তিস্তার পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ১০ ঘণ্টা পর সেই পানি আসে ডালিয়া দিয়ে তিস্তায়। ফলে তিস্তায় পানি এখন হু-হু করে বেড়েই চলেছে।
গত দু’দিনের অব্যাহত বৃষ্টিপাতে রংপুর মহানগরীর নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। অপরদিকে তিস্তার কাউনিয়া ও গঙ্গাচড়া, ধরলার নুনখাওয়া এবং ব্রহ্মপুত্রের ফুলছড়ি পয়েন্টে পানি বেড়েই চলেছে। বিশেষ করে ডালিয়া পয়েন্টে ৫৪টি গেট খুলে দেয়ায় এই পানি হু-হু করে ঢুকছে। তিস্তা, ব্রহ্মপুত্র ও ধরলার ১৫২ কিলোমিটার অববাহিকা এলাকার চরাঞ্চলে পানি ওঠা শুরু হয়েছে। নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকেছে। নদী ভাঙ্গন ক্রমাগত বাড়ছে। রংপুর বিভাগীয় কমিশনার দেলোয়ার বখ্ত জানান, রংপুর বিভাগে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
তিস্তার চরাঞ্চল প্লাবিত
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতা জানান, হঠাত্ করে গতকাল বিকেলে রংপুরের গঙ্গাচড়ায় তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। প্লাবিত হয়েছে চরাঞ্চলসহ তিস্তাকূলবর্তী এলাকাসমূহ। গতকাল বিকেলে তিস্তার পানি বাড়তে থাকে। পানিবৃদ্ধির কারণে উপজেলার ৭ ইউনিয়নের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া তিস্তার প্রায় ১৫টি চর প্লাবিত হয়েছে। লোকজনের মাঝে আতঙ্ক। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছে লোকজন। গতকাল শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লক্ষীটারী ইউনিয়নের শংকরদহ, চরইকরচালী এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। সদর ইউনিয়নের তিস্তাকূলতী গান্নারপাড় এলাকায় পানিবৃদ্ধির কারণে অনেক পাটক্ষেত তলিয়ে গেছে।
