নারায়ণগঞ্জে ত্বকী হত্যা মামলা

ক্যাঙ্গারু পারভেজের আটকের খবরে সড়ক অবরোধ

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৩, ২৩:০৪
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত তানভীর মুহাম্মদ ত্বকী হত্যার ঘটনায় যুবলীগ নেতা জহিরুল ইসলাম ভুঁইয়া ওরফে কাঙ্গারু পারভেজকে আটকের খবরে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা। গতকাল শনিবার দুপুরে স্ত্রীর সঙ্গে একটি মাইক্রোবাসে নারায়ণগঞ্জে যাওয়ার সময় রাজধানীর গুলশান ২ নম্বর এলাকা থেকে ডিবি পরিচয়ে ৮/১০ জন অস্ত্রধারী তাকে তুলে নিয়ে যায়। এই খবর ছড়িয়ে পড়লে নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে পুলিশ তাকে খুঁজে বের করার আশ্বাস দিলে রাত সাড়ে ৯টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়। তবে র্যাব বা পুলিশ কেউই তাকে আটক করার কথা স্বীকার করেনি। গত ৮ মার্চ শীতলক্ষ্যাপাড়ে ত্বকীর লাশ পাওয়া যায়। এর ১০ দিন পর ১৮ মার্চ তার বাবা রাফিউর রাব্বি পুলিশ সুপারের কাছে একটি আবেদন করেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, তার পুত্র হত্যার জন্য ৭ জনকে তিনি সন্দেহ করছেন। তাতে আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান, তার ছেলে অয়ন ওসমান, ভাতিজা আজমির ওসমানসহ ক্যাঙ্গারু পারভেজের নামও ছিল। ওই ৭ জনের মধ্যে তিনজনকে পুলিশ ও র্যাব গ্রেফতার করেছে। গত ২৮ এপ্রিল চাষাঢ়া গোল চত্বরের সামনে শ্রমিক লীগের একটি সমাবেশ হয়। ওই সমাবেশে পারভেজও ছিলেন। সেখানে কিছু লোকজন তাকে ধরে শহীদ মিনারে নিয়ে যায়। ব্যাপক মারধরও করে। পরে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসে। সেই থেকে তিনি গুলশানের একটি হাসপাতালে চিকিত্সাধীন ছিলেন। গতকাল দুপুরে চিকিত্সা শেষে স্ত্রী সোহানা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে একটি মাইক্রোবাসে করে নারায়ণগঞ্জের দিকে যাচ্ছিলেন। সোহানা বলেন, তাদের গাড়ি গুলশান ২ নম্বরে পৌঁছলে অপর একটি মাইক্রোবাস তাদের গাড়ির গতিরোধ করে। ওই গাড়ি থেকে নেমে ১০/১২ জন অস্ত্রধারী পারভেজের বুকে অস্ত্র ধরে নিজেদের ডিবি কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নিয়ে যায়। এরপর সোহানা থানা, ডিবি অফিসসহ সব জায়গায় খোঁজ করে তাকে পাননি। কেউ তাকে আটক বা গ্রেফতারের কথা স্বীকার করেনি। সন্ধ্যার দিকে খবর নারায়ণগঞ্জে পৌঁছে। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জের চাষাঢ়া এলাকায় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তার মুক্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। রাত সাড়ে ৯টার দিকে পুলিশ বুঝিয়ে তাদের সড়ক থেকে তুলে দেয়। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম ও র্যাব-১১ এর কমান্ডিং অফিসার লে. কর্নেল জাহাঙ্গীর বলেন, পারভেজ নামে কাউকে তারা আটক করেননি। আটকের কোন খবরও তারা জানেন না। তবে দু’জন কর্মকর্তাই বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন বলে জানান। প্রসঙ্গত, পারভেজ নারায়ণগঞ্জ যুবলীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত।