ভি ন্ন পে শা

ডাবওয়ালা নার্গিস

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২০:১২
মীরপুর। দীর্ঘদিন থেকে দেখা যায় পুরুষ ডাবওয়ালাদের সাথে একজন বলিষ্ঠ নারীও দিব্যি ভ্যান চালিয়ে, ডাব কেটে বিক্রি করছেন ডাব। ফরিদপুরে বাড়ি তার। বিয়ে হয়েছিল। সংসারে সুখ হয়নি, স্বামী অন্যত্র বিয়ে করেছে। ঢাকা শহরে এসে মাটি কাটা, বাড়ির কাজসহ বিভিন্ন কাজে চেষ্টা করেছেন ভাগ্য ফেরানোর, কিন্তু হয়নি। অন্যদিকে দরিদ্র বাবা-মাকেও দেখতে হয়েছে। লড়াই করতে হয়েছে দারিদ্র্যের নির্মম কষাঘাতের সঙ্গে, নারী হিসাবে একাকী পথ চলাতেও! আর কখনোই বিয়ের কথা ভাবেননি। তিনি মনে করেন, পুরুষেরা নারীর জীবনকে তেমনভাবে শান্তিময় করে তুলতে পারে না। তাই বিয়ে নিয়ে কোন পরিকল্পনা নেই। এমন একটি কঠিন পেশা কিভাবে নিলেন জানতে চাইলে নার্গিস বলেন, ‘জীবনই সব শিখাইয়া দ্যায়! যারা ঘাত-প্রতিঘাত দেখসে, তাদের আর ডর থাকে না। আমার মাথায় একটাই চিন্তা ক্যামনে সংসার চালামু, মা’রে দেখমু আর পেটভরে ভাত খাইয়া একটু নিশ্চিন্ত ঘুম দিমু ব্যস।’ অত্যন্ত সততার সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন ডাব বিক্রির কাজ বিগত ২২ বছর যাবত্। রোদে তাপে পুড়ে তিনি মানুষকে ভাল ডাবটি তুলে দেন। অনেকেই অসুস্থ রোগী, মা-বাবা, পরিবারের জন্য নার্গিসের ডাব নিয়ে যান। মেয়ে হিসাবে তিনি বাড়তি কোন সুবিধা নেন না, বেশি দাম রাখেন না, ন্যায্য দাম রাখেন। জানতে চেয়েছিলাম ভ্যান চালানো কাজটাতো একজন মেয়ের পক্ষে খুবই কঠিন কাজ, কিভাবে করেন? উত্তরে নার্গিস বলেন, ‘মানুষের যখন বুক-পেট দেয়ালে ঠেইক্যা যায় আপা... তখন থাকে শুধুই সাহস। অনেকেই তাকাইয়া থাকে, হাসে, আবার অনেকেই সম্মান দেয়। তবে এইসব নিয়া কি ভাবার সময় আছে আমাদের? কর্ম ছাড়া ভাত জুটব না শুধু এই কঠিন কথাটাই বুঝি। আর ভ্যান চালাইতে চালাইতে এখন আর কষ্ট কি বুঝি না, কাজটা করতে ভালো লাগে।’ কাজটাতে খুব পরিশ্রম হলেও দিন শেষে নিজেরই ব্যবসা, স্বাধীনতা আছে, সেটাই খুব উপভোগ করেন নার্গিস। ইচ্ছা না হলে ভ্যান নিয়ে বের হন না। কৈফিয়ত তলব করার কেউ নেই। আপাদমস্তক শরীর জুড়ে নার্গিসের কেবল একটি কথাই প্রকাশ পায় তা হলো তার অদম্য সাহস। সেখানে সে নারী হিসাবে নয়... পুরুষের সমকক্ষ হয়ে একজন বলিষ্ঠ মানুষ হিসাবে ভ্যান চালাচ্ছেন, ডাব কাটছেন, বিক্রি করছেন... যা সত্যিই এক নার্গিসকে মহীয়ান করে তোলে একজন সাহসী, দৃঢ়, লড়াকু মানুষ পরিচয়ে!