সামপ্রদায়িক (হিন্দু, মুসলিম) দাঙ্গায় মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ঊপকূলীয় অঞ্চলে আগমন এবং পরবর্তী সময়ে অসাম্প্রদায়িকতার চর্চায় কাজ করে যাচ্ছে ‘গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট’। গান্ধীজীর আদর্শের অনুসরণ এবং পুরুষের পাশাপাশি নারীর অগ্রযাত্রায় এ স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অনেক বেশি। নোয়াখালী ঘুরে এসে লিখেছেন— লাবিব নাজমুছ ছাকিব
আশ্রমটি মূল শহর নোয়াখালী থেকে একটু দূরেই বলা যায়। বিস্তীর্ণ সবুজের মাঠ, পিচঢালা পথ পেরিয়ে গেলে দূর থেকে দেখা যায় পুরোনো বাড়ির চূড়া। ভেতরে ঢুকতেই ‘শান্তি বাগান’ মনে করিয়ে দেয় বহু বছরের পুরনো গান্ধীজীর পদচারণার কথা। গান্ধীজীর তাঁত বস্ত্র পরিধানের আদর্শকে লালিত করে আশ্রমের একটি প্রকল্পের নাম ‘সেলাই, দর্জি বিজ্ঞান, চরকা ও তাঁত শিল্প’। এ প্রকল্পের আওতায় সহস্রেরও অধিক নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে এখন স্বাবলম্বী। আগে এ অঞ্চলের নারীরা সামাজিক বাধা, ধর্মীয় সংকীর্ণতা এবং বিভিন্ন কুসংস্কারের কারণে সমাজের সকল ক্ষেত্রে যেমন ছিল অবহেলিত তেমনি ছিল অসচেতন। নারীর ক্ষমতায়ন, সর্বস্তরে নারীর অংশগ্রহণ, অহিংসা ও শান্তি সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা, সম্পদ ও সিদ্ধান্তে নারীর অংশগ্রহণ এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য। প্রকল্প পরিচালক বলেন, এ অঞ্চলের নারীরা এখন অনেক বেশি সচেতন। তারা সরকার থেকে তাদের প্রাপ্ত অধিকারগুলো সম্পর্কে জানে, এছাড়া অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছলতার দরুন পারিবারিক ও সামাজিকভাবেও তাদের অবস্থান ভালো। প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আইটি সুবিধা প্রাপ্তির লক্ষ্যে আশ্রমের আরেকটি প্রজেক্ট হল ‘গান্ধী মেমোরিয়াল টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট’। এ সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক বলেন, এখানে দরিদ্রদের ফ্রি আইটি সহায়তা ছাড়াও নারীদের বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতার জন্যে কাজ করে থাকে। গান্ধীজীর আদর্শে আনুপ্রাণিত হয়ে এ অঞ্চলের অনেক নারীই এখন নিজেদের জীবন পরিচালনা করছে। আর যার প্রায় কৃতিত্বের দাবি রাখে ‘গান্ধী আশ্রম ট্রাস্ট’।
