‘বাংলার নব জাগরণ’ দিয়ে কানাডায় ৫ জুলাই থেকে শুরু হলো বঙ্গ সম্মেলন। টরন্টোস্থ মেট্রো কনভেনশন সেন্টারে অনুষ্ঠিত ৩৩তম উত্তর আমেরিকার বঙ্গ সম্মেলনে পশ্চিম বঙ্গ, বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডার খ্যাতিমান শিল্পী, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদসহ বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের এবারের বিষয় হচ্ছে, বাংলায় সৃষ্টিশীল মনীষী রাজা রামমোহন থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পর্যন্ত ঊনবিংশ এবং বিংশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে উদ্ভাসিত অবদানের জোয়ারে ‘বাংলার নব জাগরণ’। যা সারা পৃথিবীর ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে রচিত আছে।
৩ দিনব্যাপী বঙ্গ সম্মেলন এখন মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, চলচ্চিত্র এবং চিত্র প্রদর্শনী, সেমিনার, সাহিত্য, হস্তশিল্প, বাণিজ্যিক সেমিনার, বইমেলা, আড্ডায় জমজমাট হয়ে উঠছে।
সম্মেলনে অংশ নেন—অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তা, কণ্ঠশিল্পী শ্রেয়া ঘোষাল, লোপামুদ্রা মিত্র, সাশা ঘোষাল, ঋদ্ধি বন্দোপাধ্যায়, কৌশিকি চক্রবর্তী, বিক্রম ঘোষ, জয়তী, সাহেব চট্টোপাধ্যায়, পার্বতী বাউল, সৈকত মিত্র, মনোময় ভট্টাচার্য্য প্রমুখ। ভিসার জটিলতার কারণে বাংলাদেশ থেকে ফাতেমা-তুজ-জোহরা এবং বারী সিদ্দিকী অংশ নিতে পারেননি। এবারের সম্মেলনে চলছে শুধুমাত্র বাংলাদেশি চিত্রশিল্পীদের চিত্র প্রদর্শনী। বাংলাদেশ আর্ট সোসাইটি অব নর্থ আমেরিকা ‘বাসনা’র শিল্পীদের বিশেষচিত্র প্রদর্শনীতে অংশ নেবেন আফরোজা চৌধুরী, আফরোজা খানম, চমন আরা বেগম, ফাহমিদা হোসেন, ফারজানা শাহেরিন নিগার, ইফতেখার উদ্দীন আহমেদ, মইনুর রহমান আরজু, মো. আওলাদ হোসেন, মাজহারুল হক, মশিউর রহমান, সোনিয়া ইশরাত মীর্জা, সৈয়দ নাজমুল আলম, নীলোত্পল দেবনাথ ও জাকিয়া আরজুমান্দ বানু। উল্লেখ্য, বহির্বিশ্বে সকল বাঙালিদের মধ্যে বঙ্গ-চেতনার সাংস্কৃতিক সেতু তৈরি এবং বাঙালিদের মহা মিলনক্ষেত্র স্থাপনের লক্ষ্যে তেত্রিশ বছর ধরে এ বঙ্গ সম্মেলন হয়ে আসছে। ইতোপূর্বে ১৯৯২, ১৯৯৮ এবং ২০০৮ সালেও কানাডাতে বঙ্গ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। বাংলার যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনে এবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং পশ্চিম বঙ্গের মুখ্য মন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা কেউ অংশগ্রহণ করেননি।
