২০১২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পুনঃনির্বাচিত হয়েছে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী বারাক ওবামা। এর চার বছর পর ২০১৬ সালে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে। এই নির্বাচনের এখনো তিন বছরের বেশি সময় বাকি থাকলেও রিপাবলিকান দল এখনই হিসাব কষছে ডেমোক্র্যাটরা কাকে প্রার্থী করতে পারে। কেউ চাইলেই সেখানে প্রার্থী হতে পারেন না। দুই দলই দীর্ঘ প্রক্রিয়ায় প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্য থেকে একজন করে প্রার্থী মনোনয়ন দেয়। অর্থাত্ আগামী নির্বাচনে কে কোন দলের প্রার্থী হবে তা এখনই বলা সম্ভব না হলেও রিপাবলিকানরা এখনই চিন্তিত হয়ে পড়ছেন এই ভেবে যে, ওবামার প্রথম মেয়াদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনই তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন। তাকে ঠেকানোর জন্য তাই এখন উঠে পড়ে লেগেছে রিপাবলিকানরা। তারা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, হিলারি বুড়ো হয়ে গেছেন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দৌড় থেকে হিলারিকে দূরে রাখতেই এই কৌশল নিয়েছে রিপাবলিকানরা।
নিউইয়র্ক টাইমসের জনাথন মার্টিন লিখেছেন, ২০১৬ সাল অনেক দূরে থাকতে পারে। কিন্তু এটি সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, রিপাবলিকান নীতিনির্ধারকও সম্ভাব্য প্রার্থীরা অত্যন্ত সচেতনভাবেই হিলারির বয়সটিকে সামনে আনার জন্য উদগ্রীব। রিপাবরিকান দলের মিচ ম্যাককোনেল, স্টক ওয়াকার থেকে শুরু করে মিট রমনির পরনো সহকর্মী স্টুয়ার্ট স্টিভেন্স সবাই সম্প্রতি এক জনসমাবেশে সেই কথাই স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, হিলারির বয়স এখনই ৬৫ বছর হয়ে গেছে। ২০১৬ সালে তার বয়স হবে ৭০। এটি অবশ্যই অনেক বয়স। তার তুলনায় রিপাবলিকানদের মধ্য থেকে যারা নির্বাচন করতে চান ববি জিনদাল (৪২), মারকো রুবিও (৪২), ওয়াকার (৪৫), র্যান্ড পল (৫০) ও ক্রিস ক্রিস্টি (৫০) এই দিক থেকে এগিয়ে আছেন। তবে একটি বিষয় উল্লেখ করার মতো, রিপাবলিকানরা এর আগেও হিলারিকে আক্রমণ করে কথা বলেছেন। তার চেহারায় ভাঁজ পড়ে গেছে, তিনি পরিপাটি নন— এমন সব মন্তব্য করেছেন রিপালিকানরা। তার ‘মূল্যবান পোশাক’ও সমালোচনার কারণ হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী হিসেবে তিনি যখন সারা বিশ্ব সফর করতেন তখন ‘চেহরায় ভাঁজপড়া’ হিরারিকে বিশ্রামেরও পরামর্শ দিয়েছেন রিপাবলিকানরা। তবে মজার বিষয় হলো ৫১ বছর বয়স্ক বারাক ওবামা গত বছর রিপাবলিকান দলের বয়স্ক প্রার্থী মিট রমনিকে হারিয়ে জয়লাভ করেছেন। চার বছর আগেও ওবামা পরিবর্তনের কথা বলে জন ম্যাককেইনকে পরাজিত করেন, তখন ওবামার বয়স ছিল ৪৬ বছর। আবার ১৯৯২ সালে হিলারির স্বামী বিল ক্লিনটন প্রতিপক্ষকে ‘বয়স্ক’ বলার কৌশল গ্রহণ করেছিলেন। তখন ৪৬ বছর বয়সে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালেও ক্লিনটন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বব ডোলকে হারিয়ে প্রেসিডেন্ট পদে পুনঃনির্বাচিত হয়েছিলেন। এখন রিপাবলিকানরা সেই ‘বয়স্ক প্রার্থী’ প্রচারণাকেই কাজে লাগাতে চাইছে। তবে যাকে নিয়ে এত আলোচনা সেই হিলারি এখনো স্পষ্ট করে জানাননি তিনি পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে থাকছেন কিনা।
