কী করে এলো

রেফ্রিজারেটর

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২০:৫৩
খাদ্য দ্রব্যকে শীতল পরিবেশে দীর্ঘদিন ভালো রাখার জন্য কিংবা যেকোনো ধরনের পানীয়কে ঠান্ডা রাখতে রেফ্রিজারেটরের জুরি মেলা ভার। আর আধুনিক মানুষের ঘর-গেরস্থালির নিত্য সঙ্গী হয়ে ওঠা এই গুরুত্বপূর্ণ ইলেকট্রনিক্স সামগ্রীটির ধারণা মানুষের মাথায় প্রথম এসেছিল সেই ঊনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে। বিষয়টা এমন নয় যে এর আগে শীতল পানীয় বা আইসক্রিমের মতো শীতল খাবারের সাথে পরিচয় ছিল না মানুষের। তবে প্রাচীণ যুগের সেইসব শীতলীকরণ ব্যবস্থার সাথে হালের রেফ্রিজারেটরের বড় পার্থক্য আসলে গড়ে দেয় রেফ্রিজারেটরের কর্মপদ্ধতিতে বিদ্যুত্ ও রাসায়নিক উপকরণের ব্যবহার। যদিও প্রথমদিককার রেফ্রিজারেটরের আকৃতি যেমন এতটা বড় ছিল না ঠিক তেমনি তার উদ্দেশ্যও ছিল খানিকটা ভিন্ন। এ কারণে ঠিক খাবার সংরক্ষণের চিন্তা থেকে নয়, বরং নানা প্রয়োজনে দরকার পড়া বরফের যোগান দিতেই রেফ্রিজারেটরের অন্যতম উদ্ভাবক হিসেব স্বীকৃত জেমস হ্যারিসন প্রথম বরফ তৈরির মতো একটি যন্ত্র তৈরি করেন। সেটা ছিল ১৮৫০ সালের দিককার কথা। হ্যারিসনের এই আবিষ্কার নেহাত ঘরোয়া প্রয়োজনে হলেও বিষয়টা ঠিকই নজরে পড়ে তত্কালীন ফরাসি প্রতিষ্ঠান ক্যারে অ্যান্ড কোম্পানির। যেহেতু সকলেরই জানা ছিল যে, বরফের মধ্যে বা শীতল পরিবেশে খাদ্য দীর্ঘক্ষণ সতেজ থাকে তাই হ্যারিসনের বরফ তৈরির যন্ত্রটিকেই একটু ভিন্নভাবে ও আরও বড় আকৃতিতে বাজারজাত করার চিন্তা করলেন তারা। এ থেকে বরফ পাওয়ার পাশাপাশি বরফ শীতল পরিবেশে যেন খাদ্যদ্রব্যও রাখা যায় সেটাই ছিল তাদের মূল ভাবনা। আর এই ভাবনাকে সঙ্গী করেই ১৮৬০ সালে প্রথমবারের মতো বাণিজ্যিকভাবে ছাড়া হয় ক্যারে অ্যান্ড কোম্পানির রেফ্রিজারেটরগুলো। আকর্ষণীয় রঙ, নকশা আর তুলনামূলক কম দামের বলে মানুষের কাছে দ্রুতই জনপ্রিয়তা পেতে থাকে ক্যারে অ্যান্ড কোম্পানির এই রেফ্রিজারেটরগুলো। যদিও পরবর্তী সময়ে ফ্রেয়ন গ্যাসের নিয়ন্ত্রিত পরিচালনের ফলে অধিক কর্মক্ষমতা পাওয়ার আগ পর্যন্ত অধিকাংশ রেফ্রিজারেটরের শীতলীকরণের মূল উপাদান ছিল অ্যামোনিয়ার নিঃসরণ যার সাহায্যে প্রতি ঘণ্টায় কোনোভাবেই এক-দুই কেজির বেশি বরফ জমানো যেত না।