মৌসুম শেষের আগেই রাজশাহীতে আমের দাম হঠাত্ বেড়ে গেছে। আমের বিভিন্ন জাত ভেদে কেজি প্রতি দাম বেড়েছে ২৫ থেকে ৫৫ টাকা পর্যন্ত। আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় রাজশাহীর আমের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় আমের দাম বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গতকাল শনিবার দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমের হাট রাজশাহীর বানেশ্বরে প্রতিমণ আমের দাম ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। আগের দিন শুক্রবার ভালো মানের ফজলি আম ১৭শ’ থেকে ১৮ শ’ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল একই মানের আম ২ হাজার থেকে ২৩শ’ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজার ও আশেপাশের বাজারে প্রতিকেজি খিরসাপাতি আম ১২০ টাকা, ল্যাংড়া কাঁচা ৯৫ থেকে ১০০ টাকা, ল্যাংড়া পাকা ৮০ থেকে ৯০ টাকা, ফজলি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, আম্রপলি ৭৫ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আমের দাম আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বাজারে খিরসাপাতি ও ল্যাংড়া আম শেষের পথে। গোপালভোগ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজার দখল করে নিয়েছে আশ্বিনা জাতের আম।
ব্যবসায়ীরা জানান, আমের মৌসুম প্রায় শেষের দিকে। রাজশাহী থেকে প্রতিদিন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে কয়েকশ’ টন আম বিভিন্ন জেলায় যাচ্ছে। এছাড়া আসন্ন রমজানকে সামনে রেখে ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লার ব্যবসায়ীরাও রাজশাহী থেকে আম কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে মজুদ করছেন। এ কারণে আমের দাম হঠাত্ বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী সপ্তাহ থেকেই পবিত্র মাহে রমজান। এবার ইফতারের অন্যতম আইটেম হবে আম। রমজানের মাঝামাঝি পর্যন্ত ফজলি থাকলেও দাম আরো বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে গোটা রমজানেই আশ্বিনা আম পাওয়া যাবে।
রাজশাহী কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর এবং রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের তথ্যানুযায়ী চলতি ২০১২-২০১৩ মৌসুমে রাজশাহীতে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮৮ মেট্রিক টন আম উত্পাদনের টার্গেট ধরা হয়েছে। বিগত ২০১১-২০১২ মৌসুমে রাজশাহীতে ৮ হাজার ৯৮৬ হেক্টর জমিতে ১০ লাখ ৬ হাজার ৮৮১টি গাছ থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৪৮৮ মেট্রিক টন আম উত্পাদিত হয়েছে। গতবারের উত্পাদনই চলতি মৌসুমের টার্গেট ধরা হয়েছে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আব্দুল আলীম জানান, এবার আমের বাম্পার উত্পাদন না হলেও আশানুরূপ উত্পাদন হয়েছে। প্রকৃত উত্পাদনের হিসাব পেতে আরো কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে।
