নার্সারি করে স্বাবলম্বী পীরগঞ্জের ওহাব

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২১:০৬
একজন পরিশ্রমী-উদ্যমী ও সফল নার্সারীর মালিকের নাম আব্দুল ওহাব। অভাব-অনটনের কারণে স্কুলের বারান্দায় পা পড়েনি তার। সেই ওহাব নার্সারী করে স্বাবলম্বী হওয়ায় এখন বেকার যুবকদের অনুকরণীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন। রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার নিভৃত পল্লী ঝাড়বিশলা গ্রামে ওহাবের বাড়ি। ওহাবরা ৫ ভাই ৩ বোন। সবার ছোট তিনি। ছোট থাকতেই বাবা আফছার আলী মারা যান। ভাইদের কাছে বড় হয়েছেন তিনি। পৈতৃক সূত্রে কোন প্রকার জমি পাননি। অভাবের কারণে এক সময় মজুরি দিয়েছেন। স্ত্রী জমিলা বেগম, ১ পুত্র ও ২ কন্যা সন্তান নিয়ে এখন তার সুখের সংসার। ওহাব আলী জানান, ১০ বছর আগেও তার সংসারে প্রচুর অভাব অনাটন ছিলো। ২ বেলা খাবার যোগাড়ে দিনমজুরি করা ছাড়াও ধান কিনে বাড়িতে চাল করে বিক্রি করতাম। এতে সংসারের অভাব কমে না। অভাবকে জয় করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। একদিন রাঙ্গা নামে তার এক ভাগিনা তাকে নার্সারী করার পরামর্শ দেন। ভাগিনার পরামর্শে ঐ বছরে নার্সারী শুরু করেন। শুরুতে অন্যের জমি লিজ নিয়ে বিভিন্ন প্রজাতির ২০ হাজার চারা তৈরি করেন। ঐ বছর নীট মুনাফা করেন ৭০ হাজার টাকা। এ কাহিনী ১০ বছর আগের। ২য় বছরে বৃষ্টির অভাবে চারা মরে যাওয়ায় মুনাফা করতে পারেননি। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি। এর পরের বছরেও ২০ হাজার চারা বিক্রি করে আগের বছরের ক্ষতি পুষিয়েও প্রায় ৫০ হাজার টাকা আয় করেন। এখান থেকেই উত্থান। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। নার্সারীর আয় দিয়ে ১০ শতক জমি ক্রয় করে ইটের বাড়ি করা ছাড়াও আবাদী জমি কিনেছেন ৫০ শতক। এবারে নিজের ১ বিঘাসহ ২ বিঘা জমি ২৬ হাজার টাকায় লিজ নিয়ে ৬০ হাজার চারা লাগিয়েছেন। চারাও ভালো হয়েছে। এতে সর্ব সাকুল্যে খরচ হয়েছে ৮০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যেই চারা বিক্রি করে খরচের টাকা তুলেছেন। এবারে চারা বিক্রি করে দেড় লক্ষাধিক টাকা নীট আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি। ওহাব বলেন- স্কুলে লেখাপড়া করার সুযোগ হয়নি অভাবের কারণে। তাই অভাবকে জয় করতে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আল্ল¬াহ আমার পরিশ্রমের ফল দিয়েছেন।