কলম্বোতে অভিষেক টেস্টে বিশ্বরেকর্ড করার পরদিনই প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়রা, ধারাভাষ্যকাররা তাকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলেন। তখন পত্র-পত্রিকায় লেখাও হয়েছিল— জন্মদিনকে সামনে রেখে বিশ্বরেকর্ড করলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। কিন্তু মজার ব্যাপার হল, ৯ সেপ্টেম্বর পালিত সেই জন্মদিনের তারিখটা ছিল ভুল।
সেই ভুল সবাই সংশোধন করেছে। এখন আন্তর্জাতিক সব ওয়েবসাইট, সংবাদ মাধ্যমেই লেখা হয়, আশরাফুলের জন্ম তারিখ ৭ জুলাই। ২০০১ সালের সেই ভুল সংশোধন হয়েছে। কিন্তু গতকাল আরেকটি ৭ জুলাই আশরাফুলের জন্মদিন যখন সামনে এসেছিল; তখন আরেকবার সেই শব্দটা ফিরে এলো—ভুল!
হ্যাঁ, এবার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুলের মাশুল দিতে নীরবে-নিভৃতে গতকালকের জন্মদিনটা কাটিয়ে দিলেন আশরাফুল। ম্যাচ ও স্পট ফিক্সিংয়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আশরাফুল এখন সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সাময়িক নিষিদ্ধ। আইসিসির দুর্নীতি দমন ইউনিটের (আকসু) রিপোর্ট এলে বোঝা যাবে, কতোটা শাস্তি অপেক্ষা করছে তার জন্য। আপাতত আছেন তিনি এক নির্বাসনে। এই নির্বাসনের সময়টাতেই কাল কেটে গেল বাংলাদেশের সর্বকালের অন্যতম প্রতিভাধর এই ব্যাটসম্যানের জন্মদিন।
জন্মদিন কখনোই ঘটা করে উদযাপন করেন না আশরাফুল। তাইবলে এমন নিভৃতেও খুব একটা দিনটা কাটানোর উদাহরণ নেই। অন্তত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসার পর থেকে দিনটা সতীর্থরা বা ঘনিষ্ঠরা বেশ মনেই করিয়ে দিত। কাল আশরাফুল সে সুযোগ কাউকে দেননি।
নিজেই বলছিলেন এই দিনটা এমন অপরিচিত ভঙ্গিতে কাটানোর কথা, ‘জন্মদিনে কখনোই আমি খুব বেশি কিছু করি না। তবে এমন নীরবেও কাটে না কোনো বছর। এ বছর যেহেতু প্রায় কেউই ফোন নম্বর জানে না, আমিও কারো সঙ্গে খুব যোগাযোগ করছি না; তাই নীরবে কেটে গেল দিনটা। ক’দিন হল জিম শুরু করেছি। এদিনই তাই করেছি, টিভি দেখেছি আর নিজের কিছু কাজে বেরিয়েছিলাম একবার।’
আশরাফুল খুব ভালো করেই জানেন, নিজের ভুলেই আজ এমন একটা বাজে সময় কাটাতে হচ্ছে তাকে। সে জন্য সবার কাছে ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়েছেন। এখন দেখার বিষয় তার এই এগিয়ে এসে ভুলের স্বীকারোক্তি দেয়া, ক্ষমা চাওয়ায় ক্রিকেটীয় শাস্তি কতোটা কমে।
শাস্তি শেষ পর্যন্ত যাই হোক; এই জন্মদিনটাকে আরেকটু অন্যরকমভাবে মনে রাখতে চান আশরাফুল। এটা তার জীবন নতুন করে শুরু করার একটা দিন হতে পারে বলেই মনে করছেন, ‘জানি না কী হবে। তবে আমি ইতিবাচকভাবেই ভাবতে চাই। এই দিনটা হয়তো আর দশটা দিনের মতোই। তারপরও আমি ভাবতে চাই, এই জন্মদিন থেকে আমার নতুন জীবনের পথ চলা শুরু হচ্ছে; যে জীবনে ফেলে আসা ভুলগুলোকে আর জায়গা দেব না।’
