জামালপুর পৌরসভার নাওভাঙ্গাচর এলাকাটি পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের করাল গ্রাসে বিলীন হতে চলছে। চলতি মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
নাওভাঙ্গা ও কুলুরচর এলাকার প্রায় ৫ হাজার পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙ্গনে বিলীন হতে চলছে। শহরে জমির মূল্য অত্যাধিক এবং বাড়িভাড়া চড়া সে কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ ব্রহ্মপুত্র নদের তীর ঘেঁষে নাওভাঙ্গা চরে দীর্ঘদিন থেকে বসবাস করে আসছিল। গত বর্ষা মৌসুমে ব্রহ্মপুত্রের ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দেয়। সে সময় ৫ শতাধিক পরিবার বসতভিটা হারিয়ে শহরের বিভিন্ন স্থানে ঝুপড়ি বেঁধে বসবাস করে আসছে। এবার বর্ষা মৌসুম শুরুর সাথেই ব্রহ্মপুত্র নদের প্রবল ভাঙ্গনে নাওভাঙ্গাচর ও কুলুরচর এলাকার অসহায় মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। নদীর গতিপথ পরিবর্তন হওয়ায় বর্তমানে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত শহররক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে। গত ১০ দিনে ভয়াবহ ভাঙ্গনে নাওভাঙ্গাচরের দুই শতাধিক পরিবার গৃহহারা হয়ে পড়েছে। অসংখ্য গাছ-পালা ও ফসলি জমি নদীগর্ভে।
নাওভাঙ্গাবাসীর অভিযোগ, বিগত দিনে অনেকেই ভাঙ্গন রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিন্তু কাজে কেউ এগিয়ে আসেননি। বন্যা ও ভাঙ্গনে নিঃস্ব হলেও পুনর্বাসনে সরকারি সাহায্য পাননি। ভাঙ্গনরোধে এখনই স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে অচিরেই হারিয়ে যাবে সর্বশেষ নাওভাঙ্গাচর ও শহররক্ষা বাঁধসহ জামালপুর ডিসি অফিস, জেলা স্কুল, পৌরভবন, পৌর কমিউনিটি সেন্টার, শহরের ফৌজদারী মোড় এলাকা ও দেওয়ানপাড়া এলাকাসহ জামালপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। জামালপুর পৌরসভার মেয়র এডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুন বলেন, ভাঙ্গনরোধে জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বারংবার তাগিদ দিলেও এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
