রোজায় রাত ৮টা না ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা?

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:০০
রমজানে রাত ৮টা না ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে তা নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছতে পারেনি বিদ্যুত্ বিভাগ ও দোকান মালিকরা। বিদ্যুত্ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, প্রথম ১৫ রমজান রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে। অন্যদিকে দোকান মালিকরা বলছে, প্রথম ১০ রমজান রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে। তারপর সার্বক্ষণিক। গতকাল রবিবার বিদ্যুত্ বিভাগ দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে রমজানের বিদ্যুত্ সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করে। কিন্তু বৈঠকে রমজানে ঠিক কয়টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকবে তা নিয়ে কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই পক্ষ দুই রকম প্রস্তাব দিয়ে অন্য সব বিষয়ে আলোচনা করেই বৈঠকের ইতি টানে। তবে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই রাত ৮টায় দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মেনে নেয়ার জন্য দোকান মালিকদের প্রতি আহবান জানিয়েছে। একইসঙ্গে গতকাল এক বিবৃতিতে রমজানে বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী হওয়ার আহবান জানায় সংগঠনটি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. তৌফিক ই ইলাহী চৌধুরী, বিদ্যুত্ প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ এনামুল হক, বিদ্যুত্ সচিব মনোয়ার ইসলাম, বাংলাদেশ বিদ্যুত্ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুল ওয়াহাব, আরইবির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার মঈন উদ্দিন, ডিপিডিসি, ডেসকোর প্রতিনিধি, দোকান মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এমএ জামান মঞ্জু, সহ-সভাপতি হেলাল উদ্দিন হেলাল, মহাসচিব এসএ কাদের কিরণ, সাংগঠনিক সচিব শাহ আলম খন্দকারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। এফবিসিসিআই বিবৃতিতে জানায়, পবিত্র রমজান মাসে সেহির, ইফতার ও তারাবি নামাজের কারণে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা থাকায় এ মাসে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বিদ্যুত্ ব্যবহারে যত্নবান ও সাশ্রয়ী হওয়া উচিত। ইফতার থেকে তারাবি নামাজ পর্যন্ত বাসাবাড়ি, বেসরকারি অফিস এবং মার্কেট, শপিং মল ও দোকানগুলোতে এয়ার কন্ডিশন (এসি) ও এয়ার কুলার সীমিত ব্যবহার করতে এবং বিপণী বিতানগুলোতে আলোকসজ্জা না করার জন্যও অনুরোধ করা হয়। এ বিষয়ে ডিপিডিসির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, দোকান মালিক সমিতি রাত ৯টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার কথা বললেও সরকারের তরফ থেকে রাত ৮টায় দোকান বন্ধের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রতিবারের মতো এবারও বিপণী বিতানে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ইফতার, তারাবির সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত যন্ত্র না চালানো, অতিরিক্ত বাতি ব্যবহার না করা এবং বিদ্যুত্ সাশ্রয়ী বাল্ব ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। বৈঠকের পর দোকান মালিক সমিতির সাংগঠনিক সচিব শাহআলম খন্দকার বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাব দেয়া হলেও ৮টাতেই দোকান বন্ধ করতে হবে এমন কঠোর নির্দেশনা দেয়া হয়নি। ইফতার, তারাবির নামাজ এবং পিক আওয়ারে এসি বন্ধ রাখা এবং আলোকসজ্জা করে বিদ্যুত্ অপচয় না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। মানুষের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ প্রাপ্তিতে সাহায্য করার জন্য বিদ্যুত্ বিভাগকে সহায়তা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বৈঠকে সরকারি ১০ দফা সম্পর্কে বলা হয়, ইফতার, তারাবি এবং সেহরীতে সর্বোচ্চ বিদ্যুত্ সরবরাহ করা হবে। এসময় কোন লোডশেডিং করা যাবে না। বিদ্যুত্ অভিযোগ কেন্দ্র এবং সরাসরি টেলিফোন চালু করা হবে। পরবর্তীকালে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সরাসরি ফোন নম্বর দেয়া হবে। পিক আওয়ারে অভিযোগ কেন্দ্রে একজন সিনিয়র প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করবেন। কোন বিদ্যুত্ ট্রান্সফরমারে বড় বিপর্যয় হলে সর্বোচ্চ ২৪ ঘন্টার মধ্যে তা সারিয়ে তুলতে হবে। রমজানে সব ধরনের সার কারখানা উত্পাদন বন্ধ রাখবে। তেলভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রগুলোকে সর্বোচ্চ পরিমাণ উত্পাদন করতে হবে। এ জন্য জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে। সাধারণকে জানানো আহ্বানগুলোর মধ্যে রয়েছে সিএনজি স্টেশন সরকার নির্ধারিত সময়ে বন্ধ রাখতে হবে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রিরোলিং স্টিল মিল বন্ধ রাখতে হবে। একই সময়ে ওয়েল্ডিং মেশিন, পানির পাম্প, আয়রন না চালানো, এসির লোড ২৪ এ রাখা ও আলোকসজ্জা বাদ দিয়ে বিদ্যুত্ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে।