দেশের একমাত্র নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গ্রামীণ ব্যাংক তিলে তিলে একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। যার ৯৭ ভাগ শেয়ারের মালিক নারীরা। সেই নারীদের সম্পত্তি কেড়ে নেয়ার পরিণাম সরকারের জন্য শুভ হবে না। নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে সরকারিকরণের হাত থেকে রক্ষার জন্য তিনি দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিকল্পধারা প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক এ.কিউ.এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর সঙ্গে গতকাল রবিবার মতবিনিময় বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে ড. ইউনূস একথা বলেন।
অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ড. ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংক একইসঙ্গে দুটি নোবেল পুরস্কার পেয়েছে। গ্রামীণ ব্যাংকের ৮ হাজার কোটি টাকার সম্পদ লুটপাট করার উদ্দেশ্যেই এটাকে ১৯ টুকরা করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। প্রায় এক কোটি সদস্যের মালিকানাধীন একটি ব্যাংক ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে পৃথিবীর সব দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই প্রতিষ্ঠানকে টুকরো করার অধিকার কোনো সরকারের নেই। সরকারের উদ্দেশে সাবেক এই রাষ্ট্রপতি বলেন, আপনাদের সময় শেষ, সুতরাং গ্রামীণ ব্যাংক ভাঙ্গার যড়যন্ত্র পরিত্যাগ করুন। আশা করি শেষ সময়ে আপনাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং গ্রামীণ ব্যাংক টুকরো টুকরো করার পথ থেকে সরে আসবেন।
বি. চৌধুরীর নেতৃত্বে বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নানসহ দলের একটি প্রতিনিধিদল রাজধানীর মিরপুর গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের ইউনূস সেন্টারে পৌঁছালে ড. ইউনূস তাদের স্বাগত জানান। সকাল সাড়ে ১০টায় তারা ড. ইউনূসের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। সাড়ে ১১টায় বি. চৌধুরী ও ড. ইউনূস যৌথ সংবাদ ব্রিফিং করেন।
ড. ইউনূসের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বি. চৌধুরী বলেন, তিনিই (ড. ইউনূস) প্রথম ব্যক্তি, যিনি বাংলাদেশকে দরিদ্র দেশ না বলার জন্য পৃথিবীব্যাপী আহ্বান জানিয়েছিলেন। ড. ইউনূসকে ন্যায় ও সত্যের পথে অবিচল থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক নিয়ে যে কোনো ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিকল্পধারা সবসময় সোচ্চার প্রতিবাদ জানাবে এবং আপনার পাশে থাকবে। এক প্রশ্নের উত্তরে বি. চৌধুরী বলেন, আগামী জাতীয় সংসদের নির্বাচন হবে কিনা, সে বিষয়ে ঘোরতর সন্দেহ রয়েছে। তবে একমাত্র তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি পুনর্বহাল করা হলে নির্বাচন হতে পারে। আর নির্বাচন না হলে আসতে পারে অসাংবিধানিক সরকার অথবা চাপিয়ে দেয়া কোনো সরকার, যা দেশের জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় সৃষ্টি করতে পারে। অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সিটি করপোরেশন নির্বাচনে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে, পরাজয় হয়েছে সরকারের। এসব নির্বাচনে জনগণ সরকারকে হলুদ কার্ড দেখিয়েছে। সঠিক নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগ হেরে যায়, সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে এ কথাই প্রমাণিত হয়েছে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. ওসমান হায়দার চৌধুরী, বিকল্পধারা নেতা ইঞ্জিনিয়ার মো. ইউসুফ, শাহ আহমেদ বাদল, মাহফুজুর রহমান ও মো. শাহ আলম প্রমুখ।
