‘পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল সংশোধন করবে আওয়ামী লীগ’

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৫
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে জনগণ কি কারণে মহাজোট সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দেয়নি তা অনুসন্ধান করবে আওয়ামী লীগ। পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে যে ভুল ছিল তার সংশোধন করে আগামী দশম জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের আস্থা অর্জন করার জন্য যা করা প্রয়োজন তার সবই করবে দলটি। গতকাল রবিবার কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা-মন্ডলীর সদস্য, প্রবীণ পার্লা-মেন্টারিয়ান তোফায়েল আহমেদ এমপি ইত্তেফাককে জানান, গাজীপুর সিটি নির্বাচনে বিএনপির মিথ্যা অপপ্রচারের জয় হয়েছে। তবে এ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারো প্রমাণিত হয়েছে যে, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে। আওয়ামী লীগের দ্বিতীয় দুর্গ হিসাবে পরিচিতি পাওয়া গাজীপুরে ক্ষমতাসীন দল সমর্থিত মেয়র প্রার্থীর পরাজয় প্রসঙ্গে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের প্রসিডিয়াম সদস্য ও যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, জনগণের কাছে দুর্ভেদ্য দুর্গ বলে কিছু নেই। জনগণ যে কোন দুর্গই ভেঙে দিতে পারে, যদি তারা আস্থা হারায়। গাজীপুর নির্বাচনে জনগণ আমাদের ভোট দেয়নি, তাই হেরে গেছি বলেও জানান তিনি। গাজীপুরে নির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলর পদে বিজয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত মাতাল হাওয়া বইতে থাকবে। এ হাওয়া কোন্ দিকে যাবে তা বলা যাবে না। গাজীপুরের এই ফল আগামী নির্বাচনে কী প্রভাব ফেলবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, এটি ছিল স্থানীয় সরকার নির্বাচন, জাতীয় নির্বাচন আলাদা বিষয়। তবে পরাজয় থেকে শিক্ষা নিয়ে ভুল সংশোধন করতে চাই। ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এমপি বলেন, এই নির্বাচনে জাতীয় রাজনীতির প্রভাব পড়েছে। এছাড়া মহাজোটের পেছনে ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে অপপ্রচার ও একটি শক্তির অর্থ ও পেশিশক্তির প্রভাবও পরাজয়ের পেছনে কাজ করেছে। তবে এই সরকারের অধীনে যে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব এটা আমরা প্রমাণ করেছি। জাসদের সাধারণ সম্পাদক শরীফ নূরুল আম্বিয়া বলেন, এই নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত ও হেফাজতের অপপ্রচার বিজয়ী হয়েছে। তারা ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে চার সিটির মত এই নির্বাচনেও জনমত তাদের পক্ষে নিয়ে গেছে। প্রসঙ্গত, গত শনিবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী আজমত উল্লা খানকে ১ লাখের বেশি ভোটে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দল সমর্থিত এম এ মান্নান।