সিটি নির্বাচন ইস্যু

ইসির সঙ্গে দু’দফা কথা বলেছেন খালেদা জিয়া

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০১৩, ২৩:২৫
সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন নিয়ে নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে দুই দফা কথা বলেছেন বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। গত ১৫ জুন চার সিটি কর্পোরেশন (রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল) নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর ওই দিন রাতে ও গত শনিবার গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের পর ওই রাতে বিএনপির চেয়ারপার্সন নিজেই নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত নির্বাচনের দিন তিন দফা বিএনপির প্রতিনিধি দল ইসি কার্যালয়ে যায়। ওই দিন রাত ২টা পর্যন্ত সেখানে অপেক্ষা করেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা। প্রতিনিধি দলে ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান, মির্জা আব্বাস, চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা আবদুল আওয়াল মিন্টু, সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভুঁইয়া, ভারপ্রাপ্ত বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী প্রমুখ। ওই রাতে এক ফাঁকে প্রতিনিধি দলের সদস্যরা খালেদা জিয়ার সঙ্গে ফোনে কথা বলতে অনুরোধ করলে রাজি হন নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আবু হাফিজ। জানতে চাইলে খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা বলার সত্যতা স্বীকার করে নির্বাচন কমিশনার আবু হাফিজ ইত্তেফাককে বলেন, ১৫ জুন চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর সেগুলোর ফল দ্রুত প্রকাশের জন্য বিএনপি চেয়ারপার্সন তার সঙ্গে কথা বলেন। এর বাইরে অন্য কোন বিষয়ে কথা হয়নি বলে জানান তিনি। সর্বশেষ গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন বেগম খালেদা জিয়া। বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু ইত্তেফাককে জানান, সুষ্ঠুভাবে ফলাফল ঘোষণার জন্য চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া নির্বাচন কমিশনার শাহ নেওয়াজের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ওই সময়ে গণ্ডগোল চলছিল, তাই ম্যাডাম কথা বলতে চেয়েছিলেন। সেই মোতাবেক তার সঙ্গে নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলেন।’ এর আগে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজের সঙ্গে দেখা করেন। প্রতিনিধি দলে বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব বরকতউল্লাহ বুলু ছাড়াও শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী ছিলেন। কমিশন শতভাগ স্বাধীন: সিইসি প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমেদ গতকাল রবিবার বলেছেন, কমিশন শতভাগ স্বাধীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে। কমিশনের কাজে কেউ কোনো হস্তক্ষেপ করেনি। কেউ যদি হস্তক্ষেপ করে, সেটা প্রতিহত করা হবে। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠানের ব্যাপারে ঈদুল ফিতরের পর সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একই সঙ্গে কমিশনকে এখন থেকে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েও ভাবতে হচ্ছে। ইতিমধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদ এবং সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণের কাজ শেষ হয়েছে। যেসব কাজ বাকি আছে, সেগুলোও দ্রুত শেষ করা হবে। আশা করা যায়, সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।