আর কয়েকদিন পরই ছোট মেয়ে জাইমার প্রথম জন্মদিন। আসছে ঈদ-উল-ফিতর। এ দুই উত্সবকে সামনে রেখে আনন্দের সীমা ছিল না হালিশহর ‘কে’ ব্লকের বাড়িটিতে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার আন্দামান সাগরে জাহাজডুবির ঘটনা পরিবারের সবটুকু আনন্দ কেড়ে নিয়েছে।
একটি দুর্ঘটনায় অন্ধকার নেমে এসেছে আলো ঝলমল একটি সংসারে। জাহাজডুবির ঘটনায় চিরতরে হারিয়ে গেছে জাইমার বাবা মো. মাহবুব মোরশেদ। বড়বোন মাইশা (৬) আর জাইমা আর কখনোই প্রিয় বাবার কোলে চড়ে এটা-সেটা বায়না ধরার সুযোগ পাবে না। বিদেশে যাওয়ার আগে বাবা বলে গিয়েছিলেন আসার সময় অনেক চকোলেট নিয়ে আসবেন। কিন্তু চকোলেট ভর্তি বাক্সের পরিবর্তে এখন বাবার কফিনের জন্য অপেক্ষা করছে দুই অবোধ শিশু।
ডুবে যাওয়া জাহাজ ‘এমভি হোপ’-এর চিফ অফিসার হিসেবে মাত্র তিন মাস আগে যোগ দিয়েছিলেন মাহবুব মোরশেদ। জাহাজের জরাজীর্ণ দশা দেখে তখনই অজানা আশঙ্কায় বুক কেঁপে উঠেছিল। তবু জীবিকার তাগিদে জাহাজে উঠেছিলেন প্রাণোচ্ছ্বল তরুণ। যাওয়ার আগে স্ত্রী রিজভিনাকে বলে গিয়েছিলেন ৮ জুলাই আবার চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে ‘এমভি হোপ’। কিন্তু ফেরা হয়নি। চট্টগ্রাম বন্দরে নোঙ্গর করার মাত্র ৪দিন আগে আন্দামান সাগরের উত্তাল ঢেউ আর প্রবল ঝড়বৃষ্টির তোড়ে ডুবে যায় সিরামিক পণ্যের কাঁচামাল বোঝাই জাহাজটি। জাহাজটি ডুবে যাওয়ার আগ মুহূর্তে প্রাণ বাঁচানোর তাগিদে ১৭ নাবিক সমুদ্রে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এ পর্যন্ত তাদের মধ্যে ৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও জাহাজের চিফ অফিসার মাহবুব মোরশেদ ও চিফ ইঞ্জিনিয়ার কাজী সাইফুদ্দিনকে পাওয়া গেছে মৃত অবস্থায়। ৬ জন এখনও নিখোঁজ।
৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে মাহবুব ছিলেন সবার ছোট। ৮ জুলাই জাহাজ থেকে ফিরে আসার কথা ছিল মাহবুবের। এরপর জমজমাট আয়োজনে ছোট মেয়ে জাইমার প্রথম জন্মদিন পালনের প্রস্তুতিও ছিল পরিবারের। পরিবারের সবার সঙ্গে ঈদ করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিলেন তিনি। মাহবুবের বড় ভাই সোহাগ জাহাজ মালিকের প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন: জাহাজ মালিকের প্রতিষ্ঠানের লোকজন তাদের পরিবারের সদস্যদের সহযোগিতা করছেন না।
